নেত্রকোনায় বিএনপির কায়সার কামাল বড় ব্যবধানে জয়ী
নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দল মনোনীত খেলাফত মজলিসের প্রার্থী গোলাম রব্বানীর অন্তত ৭০ হাজার ৮৫৫ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কায়সার কামাল ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৪৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গোলাম রব্বানী রিকশা প্রতীকে ৮৭ হাজার ৪৮৮ ভোট পেয়েছেন।
নেত্রকোনা-১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৮৯ জন। ভোট পড়েছে ৫৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অন্য চারজন হলেন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন খান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী মো. আলকাছ উদ্দিন মীর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. আ. মান্নান (সোহাগ) এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের তারা প্রতীকের প্রার্থী মো. বেলাল হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা-১ আসনটি সমতল, পাহাড় ও আংশিক হাওর এলাকা নিয়ে গঠিত। মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও হাজং বিদ্রোহ, হাতিখেদা, তেভাগা, ব্রিটিশবিরোধী, টংক আন্দোলনসহ নানা ঐতিহাসিক ঘটনায় আলোচিত এখানকার রাজনৈতিক অঙ্গন। কায়সার কামাল এর আগেও দুইবার ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পাননি। এই প্রথম জয়ের মুখ দেখলেন তিনি।
কায়সার কামাল দীর্ঘদিন ধরে গারো, হাজং প্রভৃতি ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও বাঙালি অধ্যুষিত এই জনপদে প্রচার চালিয়ে আসছিলেন। বিশেষ করে গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি নিজ খরচ ও উদ্যোগে কয়েক হাজার দরিদ্র ও চিকিৎসাবঞ্চিত জটিল রোগীর চিকিৎসা সহায়তা করেছেন। নির্মাণ ও সংস্কার করেছেন বেশ কিছু জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, অস্থায়ী সেতু, গির্জা, মন্দিরসহ ধর্মীয় উপাসনালয়, শ্মশান ও কবরস্থান। গৃহহীনদের দিয়েছেন ঘর। প্রথাগত রাজনৈতিক মিছিল-শোডাউনের বদলে এসব জনকল্যাণমূলক কাজ করে তিনি ভোটারদের মন জয় করেছেন।
নির্বাচনে জয়লাভের পর কায়সার কামাল বলেন, ‘আমি জনগণের জন্য রাজনীতি করি। জাতি, বর্ণ ও ধর্ম–নির্বিশেষে দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন। তাঁদের কাছে দেওয়া ওয়াদা যেন আমি রক্ষা করতে পারি, আমার জন্য সেই প্রার্থনা করবেন। আমি যেন সব সময় জনগণের সেবক হয়ে থাকতে পারি। এ ছাড়া এলাকার রাজনৈতিক পরিবেশকে সুন্দর রাখার ব্যাপারেও আমি সব সময় সজাগ থাকব। সবাইকে নিয়োজিত সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা দুর্গাপুর–কলমাকান্দার উন্নয়নে কাজ করব।’