পুলিশ, আইনজীবী ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল শনিবার রাতে জেলার কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনাল থেকে জুয়া খেলার অভিযোগে সাত পরিবহনশ্রমিককে আটক করে পুলিশ। আজ সকালে পুলিশ তাঁদের আদালতে হাজির করলে ওই শ্রমিকদের জামিন আবেদনের জন্য আদালতে যান শ্রমিকনেতারা। জামিনের ব্যাপারে আলাপ-আলোচনার একপর্যায়ে শ্রমিকনেতা আকবর আলীর সঙ্গে আইনজীবী আবুল কালাম আজাদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এ সময় শ্রমিকনেতা আকবর আলীকে আইনজীবী ধাক্কা দিয়ে লাঞ্ছিত করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

খবরটি জেলার পরিবহনশ্রমিকদের কাছে পৌঁছালে তাঁরা জেলা শহরসহ পাঁচ উপজেলার বিভিন্ন সড়কে গাড়ি রেখে অবরোধ করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা আদালতসংলগ্ন জেলা আইনজীবী সমিতির মূল ফটকের বাইরে বিক্ষোভ করতে থাকেন। একপর্যায়ে কিছু শ্রমিক সেখানে লাঠিসোঁটা নিয়ে হাজির হয়ে আইনজীবী সমিতি ভবন লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা ওই আইনজীবীকে গ্রেপ্তার, বিচার ও আইনজীবী সনদ বাতিলের দাবি জানান। পুলিশ ও আইনজীবী সমিতির নেতারা মূল ফটক বন্ধ করে দিয়ে শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।

এরপর জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আমিনুর রহমান, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক আবদুল বারী শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। আলোচনা শেষে বিকেল চারটার দিকে জেলা আইনজীবী সমিতির মূল ফটকে গিয়ে প্রকাশ্যে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ। এরপর শ্রমিকেরা অবরোধ তুলে নিয়ে স্থান ত্যাগ করেন। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রাকিবুল ইসলাম, পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল লতিফ মিঞাসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আসামিদের জামিনের বিষয়ে আইনজীবী আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে শ্রমিকনেতা আকবর আলীর ঝামেলা হয়েছিল বলে তিনি শুনেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর ওই আইনজীবী ক্ষমা চান। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।

default-image

আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ বলেন, জুয়া খেলার অপরাধে আটক সাতজনের মধ্যে একজন তাঁর সম্বন্ধী। তিনি তাঁর জামিনের জন্য কাগজপত্র প্রস্তুত করছিলেন। বাকি ছয়জনের তিনজন তাঁর মাধ্যমে ও তিনজন অন্য আইনজীবীর মাধ্যমে কাজ করছিলেন। এ নিয়ে শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে কথাবার্তা হয়। একপর্যায়ে তাঁরা অভিযোগ করেন, তিনি নাকি তাঁদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন। এ নিয়ে কথা–কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁরা তেড়ে আসেন এবং তিনি আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে তাঁরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি ভুল স্বীকার করেছেন।

শ্রমিকনেতা আকবর আলী বলেন, আসামিদের জামিনের জন্য আদালতে গেলে ওই আইনজীবী অশ্লীল ভাষায় তাঁদের অপমান করেন। এ নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা–কাটাকাটির একপর্যায়ে আইনজীবী তাঁকে ধাক্কা দেন। শ্রমিকেরা বিষয়টি শুনে ক্ষুব্ধ হন।

ওসি আবদুল লতিফ মিঞা বলেন, শ্রমিকনেতা ও আইনজীবীদের মধ্যে আলোচনার পর ওই আইনজীবী শ্রমিকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে আইনজীবী সমিতি থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন