হেলিকপ্টার নিয়ে গ্রামে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর ভাই, ফুলেল শুভেচ্ছা জানালেন ওসি
আজ রোববার দুপুর ১২টা। একটি হেলিকপ্টার এসে নামল মাঠে। সেখানে আগে থেকেই দাঁড়িয়ে ছিলেন খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন ও পরিদর্শক (তদন্ত) মোশারফ হোসেন। হেলিকপ্টার থেকে নামা ব্যক্তিকে তাঁরা ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন। কুষ্টিয়ার খোকসা জানিপুর পাইলট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এ দৃশ্য দেখা যায়।
ফুলেল শুভেচ্ছা পাওয়া ব্যক্তির নাম নাসির উদ্দিন শেখ। তিনি সিঙ্গাপুরপ্রবাসী। সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরার পর ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে গ্রামের বাড়িতে আসেন। তিনি খোকসা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কমলাপুর রুমীপাড়ার বাসিন্দা। তাঁর ভাই রবিন রায়হান খোকসা পৌর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। রবিন আসন্ন খোকসা পৌরসভা নির্বাচনে সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে এলাকায় তৎপরতা চালাচ্ছেন।
এদিকে প্রবাসী ও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর ভাইকে পুলিশের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় সমালোচনা শুরু হয়। স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, সিঙ্গাপুরপ্রবাসী নাসির উদ্দিন একজন ‘আদম’ ব্যবসায়ী। তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আছে। এ ধরনের ব্যক্তিকে সরকারি কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে পারেন না। এটা সরকারি চাকরিবিধির পরিপন্থী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিঙ্গাপুর থেকে বিমানে করে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান নাসির উদ্দিন। পরে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য একটি হেলিকপ্টার ভাড়া করেন তিনি। হেলিকপ্টারটি তাঁকে নিয়ে খোকসার উদ্দেশে রওনা হয়। দুপুরের দিকে খোকসা জানিপুর পাইলট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে। এ সময় তাঁর সঙ্গে সিঙ্গাপুরপ্রবাসী আরও দুই ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন।
এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত করা হবে। আসলে কী ঘটেছে, সেটা তদন্তের পর বেরিয়ে আসবে।ফয়সাল মাহমুদ, কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
হেলিকপ্টার অবতরণের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকেই মাঠের আশপাশে ভিড় করেন স্থানীয় লোকজন। দুপুরে হেলিকপ্টারটি মাঠে অবতরণ করলে শতাধিক মানুষ মাঠের চারপাশে জড়ো হন। অনেকে মোবাইল ফোনে হেলিকপ্টার অবতরণ ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর দৃশ্য ভিডিও করেন।
তবে ফুল দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খোকসা থানার ওসি মোল্লা জাকির হোসেন। তিনি দাবি করেন, ‘এ ধরনের ব্যক্তিকে আমরা ফুল দিতে পারি না। দিইও নাই। যাদের লোক, তারাই ফুল দিছে। আমরা নিরাপত্তার জন্য গিছিলাম।’
প্রবাসীর ভাই ও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী রবিন রায়হান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাড়িতে একটি দোয়া অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে আমার ভাই ও কয়েকজন বিদেশি এসেছেন।’
রবিন রায়হান বলেন, ওসি কাউকে ফুল দেননি। ফুল কাদায় পড়ে যাচ্ছিল বলে তিনি (ওসি) ধরাধরি করেন।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) ফয়সাল মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি জেনেছেন। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত করা হবে। আসলে কী ঘটেছে, সেটা তদন্তের পর বেরিয়ে আসবে।