শীতকাল পুরো না নামতেই খেজুরের রস কীভাবে মিলল, জানতে চাইলে গাছি বাবুল ইসলাম বলেন, ‘পৌষ আসতে তো অনেক দেরি। প্যাটের খিদা তো অপেক্ষা মানে না। প্যাটের দায়ে মৌসুমের আগেই খেজুরের গাছ থ্যাকে রস নামাতে হচ্চে। আগুর (আগাম) রস খুব মিষ্টি হচ্চে। মিষ্টি রসের ঘ্রাণের স্বাদ নিচ্ছেন ক্রেতারা।’

এক গ্লাস রস পান করে গাবতলীর উনচুরকি গ্রামের জয়নাল মিয়া (৩৫) বলেন, শীতকাল এলেই খেজুরের রসের ঘ্রাণ ছড়ায় গ্রামীণ জনপদে। পাটালি গুড় দিয়ে পিঠা আর নালি গুড় দিয়ে মুড়ি খেতে অন্য রকম স্বাদ।

গাছি বাবুল ইসলামের বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলা সদরে। প্রতিবছর শীতকাল সামনে রেখে তিন মাসের জন্য খেজুরের রস আহরণের জন্য বগুড়ায় আসেন তিনি। খেজুরের রস ও গুড় বিক্রি করে তিন মাসে যে আয় হয়, তা নিয়ে ফেরেন বাড়িতে। অন্য বছর অগ্রহায়ণ মাস থেকে রস আহরণ শুরু করতেন। তবে এবার এক মাস আগে থেকেই রস আহরণ শুরু করেছেন।

বাবুল ইসলাম বলেন, খেজুরের রসের চাহিদা শীতেই বেশি। কিন্তু অন্যবারের চেয়ে এবার সংসারে অভাব বেশি। নিত্যপণ্যের দাম নাগালের বাইরে। তাই খানিকটা বাধ্য হয়ে এক মাস আগে থেকেই রস নামাতে শুরু করেছেন। গল্পে গল্পে জানালেন, বগুড়া শহরের ৪৫টি খেজুরগাছ থেকে রস আহরণ করেন তিনি।

সারা দিনে রোজগার কত, জানতে চাইতেই বাবুল ইসলাম বলেন, একটি গাছ থেকে গড়ে এক লিটারের বেশি রস নামছে না। ৪৫টি গাছ থেকে ২ দিন পরপর পালা করে রস নামানো হয়। সেই কারণে ১৫ গাছ থেকে গড়ে প্রতিদিন রস নামানো হয়। প্রতিদিন আনুমানিক ১৫ লিটার রস নামছে। ১০ টাকা গ্লাস বা ৪০ টাকা লিটার হিসেবে বিক্রি করে ৬০০ টাকার রস বিক্রি হয়। সারা দিন খাওয়াদাওয়ায় ১০০-১৫০ টাকা খরচ হয়। প্রতিদিন আয় হয় গড়ে ৩০০ টাকা। তিন মাসে গড়ে ২৫ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন। বাকি ৯ মাস কখনো আমবাগানে, কখনো খেতে-খামারে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন বলে জানালেন।