এসজিএফএল সূত্রে জানা গেছে, বিয়ানীবাজার গ্যাস ক্ষেত্রের দুটি কূপ আছে। এর মধ্যে ১ নম্বর কূপ থেকে ১৯৯১ সালে গ্যাস তোলা শুরু হয়। ২০১৪ সালে কূপটি বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৬ সালে আবার গ্যাস উত্তোলন শুরু হলেও ওই বছরের শেষের দিকে আবার বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৭ সালের শুরু থেকেই কূপটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। এরপর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন (বাপেক্স) ওই কূপে অনুসন্ধানকাজ চালিয়ে গ্যাসের মজুত পায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর ওই কূপে নতুন করে পুনঃখনন কাজ (ওয়ার্ক ওভার) শুরু হয়। কূপে গ্যাসের মজুত নিশ্চিতের পর ১০ নভেম্বর থেকে গ্যাসের চাপ পরীক্ষা শেষে গত সোমবার সন্ধ্যা থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু করা হয়। এ ছাড়া গ্যাসক্ষেত্রের ২ নম্বর কূপ থেকে বর্তমানে দৈনিক ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হচ্ছে।

সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে কূপের ৩ হাজার ২৫৪ মিটার গভীরে ৭০ বিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস মজুত আছে। আগামী ১০ বছর এ কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন করা যাবে। কূপটি থেকে দৈনিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে দৈনিক ১২৫ থেকে ১৩০ ব্যারেল কনডেন্স গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।

গ্যাসের সন্ধান ও ত্রিমাত্রিক জরিপের বিষয়ে মিজানুর রহমান বলেন, দেড় মাস ধরে বিয়ানীবাজারের ১৯১ বর্গকিলোমিটার এলাকার একটি অংশে এবং উপজেলার বারশিয়া, ডুপিটিলা, হারারগঞ্জ ও দক্ষিণ সিলেট এলাকায় ৮৬৫ বর্গকিলোমিটারে ত্রিমাত্রিক জরিপ চালানো হচ্ছে। ৭ থেকে ৮ মাস পর এ জরিপের ফলাফল জানা যাবে।

বর্তমানে এসজিএফএলের আওতায় পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র আছে। সেগুলো হলো হরিপুর গ্যাস ফিল্ড, রশিদপুর গ্যাস ফিল্ড, ছাতক গ্যাস ফিল্ড, কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ড ও বিয়ানীবাজার গ্যাস ফিল্ড। এর মধ্যে ছাতক গ্যাস ফিল্ড পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। বাকিগুলোর মধ্যে ১৩টি কূপ থেকে বর্তমানে প্রতিদিন ৯৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে।