বিএনপির প্রথম গণসমাবেশ হয় গত ১২ অক্টোবর চট্টগ্রামে। এরপর ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর, বরিশাল ও ফরিদপুরে (বিএনপির সাংগঠনিক বিভাগ) গণসমাবেশ করেছে বিএনপি। এর মধ্যে ময়মনসিংহ ছাড়া বাকি সব স্থানে সমাবেশের আগের দিন বাসসহ অন্যান্য গণপরিবহনে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। একইভাবে সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে আজ থেকে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। অন্যদিকে সিলেট জেলায় কাল সকাল-সন্ধ্যা ধর্মঘট পালিত হবে।

ধর্মঘটের আশঙ্কায় খালিয়াজুরির আবদুর রহমান বুধবারই সিলেটে পৌঁছান। তিনি খালিয়াজুরি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে আছেন। আবদুর রহমান বলেন, সিলেট বিভাগীয় গণসমাবেশে নেত্রকোনার খালিয়াজুরি, মদন ও মোহনগঞ্জ উপজেলা থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অন্তত চার হাজার নেতা-কর্মী এরই মধ্যে সিলেটে এসেছেন। তাঁরা সমাবেশস্থল, কমিউনিটি সেন্টার, আবাসিক হোটেল ও স্বজনদের বাসায় থাকছেন। সমাবেশে তাঁরা একটা ক্যাম্প করেছেন। এখানে তাঁদের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের মুক্তি চেয়ে ব্যানার, ফেস্টুনও সাঁটিয়েছেন।

গতকাল রাতে সমাবেশস্থলে তাঁর এলাকার বিভিন্ন নেতা-কর্মীদের সঙ্গে রাত কাটিয়েছেন আবদুর রহমান। গতকাল সমাবেশের মাঠে ডেকচিতে রান্নাবান্না করে কর্মীদের নিয়ে খেয়েছেন। সকাল বেলা নাশতাও সেরেছেন একসঙ্গে। আজ রাতে মাঠেই থাকবেন। কর্মীদের সঙ্গে স্লোগান, মিছিল ও গল্পগুজব করে পুরো রাত কাটিয়ে দেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

সিলেটের পর অন্য দুটি বিভাগীয় সমাবেশেও যোগ দেওয়ার ইচ্ছা আছে আবদুর রহমানের। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বাড়ছে। মানুষ ঠিকমতো খেতে পারছে না। চারদিকে অভাব আর অভাব। এ অবস্থা থেকে সাধারণ মানুষ মুক্তি চায়। বিএনপি এখন মানুষের মুক্তির আন্দোলন শুরু করেছে। এই তাগিদ থেকেই দেশের সব কটি বিভাগীয় গণসমাবেশে যাচ্ছি। ঢাকায় ১০ ডিসেম্বরের গণসমাবেশেও যাব।’