নেপালে নিয়ে কেটে নেওয়া হয় কিডনি, দেওয়া হয়নি টাকা
জয়পুরহাটের কালাইয়ে কিডনি কেনাবেচার অভিযোগে আবদুস সাত্তার নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার রাতে বগুড়া শহরের পৌর পার্ক এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার আবদুস সাত্তার কালাই উপজেলার বহুতি গ্রামের মৃত আবদুল জব্বার খলিফার ছেলে। কিডনি কেনাবেচার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত ১৩ জুন জয়পুরহাটের আদালতে আবদুস সাত্তারসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করেন মন্টু মিয়া নামের এক ব্যক্তি। পরে আদালতের নির্দেশে কালাই থানা-পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করে। মন্টু মিয়ার বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার খুকশিয়া গ্রামে।
মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, মন্টু মিয়া আর্থিক সংকটে ছিলেন। তাঁকে কিডনি বিক্রির বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখায় একটি চক্র। পরে তাঁকে ঢাকায় নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয় এবং পাসপোর্ট তৈরি করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম দিকে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে নেপালে নেওয়া হয়। সেখানে একটি হাসপাতালে ভর্তি করার পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর একটি কিডনি অপসারণ করা হয়। সেখানে কয়েক দিন হাসপাতালে রাখার পর মন্টু মিয়াকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে চুক্তি অনুযায়ী বাকি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাইলে আসামিরা তা না দিয়ে নানা টালবাহানা করেন।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার উদ্দেশ্যে দেহের অঙ্গ কর্তন ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কালাই উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে কিডনি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে একটি দালাল চক্র সক্রিয় আছে। চক্রটি বিভিন্ন গ্রামের দরিদ্র ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে কিডনি বিক্রিতে উৎসাহিত করে।
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, বুধবার রাতে বগুড়া সদর থানা এলাকা থেকে আবদুস সাত্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। কিডনি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত দালাল ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।