ঈদে বাড়িতে এসে জোড়া খুনের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তারপ্রতীকী ছবি

ঝালকাঠির নলছিটিতে জোড়া খুনের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি তাইজুল ইসলাম ওরফে রাজু (৪২) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার কুশংগল ইউনিয়নের সরমহল এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার তাইজুল ইসলাম একই এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।

ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে আসার সংবাদ পেয়ে নলছিটি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আকতার হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে খুলনার দৌলতপুর থানায় ২০০৯ সালের ৪ জানুয়ারি জোড়া খুনের অভিযোগে মামলা হয়। এর পর থেকেই তাইজুল পলাতক ছিলেন। সেই মামলায় আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম বলেন, দৌলতপুর থানার একটি জোড়া খুনের মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি তাইজুল ইসলামকে তাঁর নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে আজ আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৩ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে খুলনার দৌলতপুরের দেয়ানা সবুজ সংঘ মাঠের কাছে সাহাপাড়ায় সন্ত্রাসীরা গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে পারভেজ হাওলাদার নামে এক তরুণকে। তাঁকে কোপানোর সময় সাহাপাড়া এলাকার সুপর্ণা সাহা, তাঁর কাকা দিলীপ সাহা ও দিলীপের স্ত্রী রেখা সাহা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ করে গুলি চালায়। এতে গুলিবিদ্ধ হন সুপর্ণা সাহা। গুরুতর আহত অবস্থায় সুপর্ণাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহত পারভেজের বাবা নিজাম উদ্দীন বাদী হয়ে একই বছর ৪ জানুয়ারি সাতজনকে আসামি করে থানায় জোড়া খুনের অভিযোগে মামলা করেন। খুলনার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক সুমি আহমেদ ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর তাইজুল ইসলামসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।