রাকসু প্রশাসনের বিরুদ্ধে হামলায় অর্থায়নের অভিযোগ ছাত্রদলের, উপাচার্য বললেন ‘মিথ্যাবাদী’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকারের দাবিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ছে। গতকাল রোববার আন্দোলনরত ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনই ছাত্রশিবিরসহ তিনটি সংগঠনকে ১৫ লাখ টাকা অর্থায়ন করে হামলায় প্ররোচিত করেছে। হামলায় নারী নেত্রীরা হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রশিবির এই অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
আজ সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ ওরফে রাহী।
গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে রাকসুর কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। তাঁরা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবি জানাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ের একটি চেয়ার ভাঙচুর ও একটি টেবিল উল্টে দেন তাঁরা। পরে ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মারসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী মনোনয়নপত্র তুলতে এলে তাঁদের ঘিরে ধরেন ছাত্রদলের কর্মীরা। দুপুরের দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরও কয়েকজন সাবেক সমন্বয়কের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে আসে। দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেয়। দফায় দফায় ধস্তাধস্তি ও বাগ্বিতণ্ডার পর সমন্বয়কদের সঙ্গে আসা শিক্ষার্থীরা রাকসু ভবনের ফটকের তালা ভেঙে ফেলেন। এরপরও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ফটকে অবস্থান বজায় রাখেন। বেলা একটার দিকে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা মনোনয়নপত্র তুলতে এলে ধস্তাধস্তি হয়। তাঁদের প্রতিরোধে ছাত্রদল রাকসু কার্যালয়ের সামনে থেকে সরে দাঁড়ায়। চার ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বেলা দুইটার দিকে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়।
অবস্থান কর্মসূচিতে ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, ‘গতকাল আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানে হামলা চালানো হয়েছে। আমাদের নারী-বোনেদের হেনস্তা করা হয়েছে। আমাদের ১০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়ে মেডিকেলে ভর্তি রয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি, এই হামলার জন্য উপাচার্য ছাত্রশিবির ও তাঁদের বানানো দুটি সংগঠনকে ৫ লাখ করে মোট ১৫ লাখ টাকা অর্থায়ন করেছেন।’
দুই মাস ধরে ছাত্রদল দুটি দাবি নিয়ে আন্দোলন করছে—প্রথম বর্ষের প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থীকে ছবিসহ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং সব ছাত্র সংগঠনের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন নিশ্চিত করা। সুলতান আহমেদ বলেন, এটি শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার। প্রশাসন সহজ দাবি না মেনে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করতে চাইছে।
তবে হামলার শিকার হলেও নির্বাচনে অংশ নেবে বলে জানিয়েছে ছাত্রদল। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে এবং নেতা-কর্মীদের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত কয়েকজন নারী নেতা অভিযোগ করেন, তাঁদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার বুলিং ও ‘ভিকটিম শেমিং’-এর শিকার হতে হচ্ছে। এ ছাড়া সরাসরি হামলারও শিকার হয়েছেন। ছাত্রদলের সহসভাপতি সাবিহা আলম বলেন, ‘গতকাল আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলাম। কিন্তু হঠাৎ আমাদের নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করা হয়। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আমাদের নারীদের নানাভাবে বুলিং করা হচ্ছে।’
অর্থায়নের অভিযোগ প্রসঙ্গে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মুজাহিদ ফয়সাল প্রথম আলোকে বলেন, প্রশাসন থেকে অর্থ নেওয়া ও হামলা করার অভিযোগ হাস্যকর। তিনি বলেন, ‘কোনো রকম তথ্য-উপাত্ত ছাড়া এমন বক্তব্যের প্রমাণ দিতে না পারলে বক্তব্য ফিরিয়ে নিতে হবে এবং ক্ষমা চাইতে হবে। নাহলে আমরা আইনগত প্রক্রিয়ায় যেতে বাধ্য হব।’ নারীদের ওপর হামলা ও সাইবার বুলিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গতকালের ঘটনার অনেক ভিডিও ফুটেজ আছে। সেগুলো দেখলেই বোঝা যাবে কারা হামলা করেছে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের কোনো নেতা-কর্মী সাইবার বুলিংয়ের সঙ্গে জড়িত নয়।
অন্যদিকে ছাত্রদলের অভিযোগ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীব প্রথম আলোকে বলেন, ‘মিথ্যাবাদী, মিথ্যাবাদী, মিথ্যাবাদী। তাঁরা নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার জন্য এমন কথা বলছেন।’