ছয় মাস বন্ধ থাকার পর চিলমারী-রৌমারী নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু

রৌমারী থেকে চিলমারী নৌবন্দরে আসে ফেরি ‘কদম’। আজ বৃহস্পতিবার সকালে চিলমারী নৌবন্দর এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর কুড়িগ্রামের চিলমারী-রৌমারী নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ও নাব্যতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার সকালে এই রুটে ফেরি চলাচল শুরু করেছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) চিলমারী অঞ্চলের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আকিব সোহেল ও সহকারী ব্যবস্থাপক (হিসাব) মো. নুরুন্নবী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়, আজ সকালে রৌমারী ঘাট থেকে ‘কদম’ নামের ফেরি চিলমারীর উদ্দেশে ছেড়ে আসে। পরে ‘কুঞ্জলতা’ ফেরিটিও চলাচলে যুক্ত হয়। আপাতত সীমিত পরিসরে ফেরি চলাচল শুরু হলেও ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের পর ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ব্রহ্মপুত্র নদে বহুল প্রত্যাশিত চিলমারী-রৌমারী ফেরি সার্ভিস চালু হয়। তবে শুরু থেকেই নাব্যতাসংকট এ নৌপথের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। কয়েক দফা বন্ধ থাকার পর গত বছরের ১৯ নভেম্বর পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় ফেরি চলাচল। এতে কুড়িগ্রাম, জামালপুরসহ আশপাশের জেলার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

সোনারহাট স্থলবন্দর থেকে পাথর পরিবহনকারী ট্রাকচালক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘সোনারহাট স্থলবন্দর থেকে পাথর নিয়ে জামালপুর-ময়মনসিংহ জেলায় সরবরাহ করি। চিলমারী-রৌমারী রুটে ফেরি চলাচলের ফলে দূরত্ব ও সময় কমে গেছে। দীর্ঘদিন বিরতির পর আজ ফেরি চালুর খবর শুনে এ পথে সকালে ট্রাক নিয়ে এসেছি। আজ সিরিয়াল পাইনি। আগামীকাল সকালে পার হব।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সম্প্রতি নদে ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে নৌপথে ছয় থেকে সাত কিলোমিটার দূরত্ব কমে এসেছে। ফেরি চলাচল আগের তুলনায় সহজ ও সময় সাশ্রয়ী হবে।

এদিকে ঈদুল আজহা সামনে রেখে ২৪ ঘণ্টা ফেরি চলাচলের পরিকল্পনা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঘাট এলাকায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজও শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি। সংস্থাটির চিলমারী অঞ্চলের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আকিব সোহেল জানান, ঈদে যাত্রী ও যানবাহনের বাড়তি চাপ সামাল দিতে সার্বক্ষণিক ফেরি চলাচলের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।