বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর নেতারা জান্নাত বিক্রি করে মা-বোনদের বিভ্রান্ত করছেন। জান্নাতের মালিক তো মহান আল্লাহ। জান্নাতে কে যাবেন, কে যাবেন না—তা নির্ধারণ আল্লাহর হাতে। তাহলে জামায়াতকে জান্নাত বিক্রির ঠিকাদারি কে দিল।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এই মাঠে (বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠ) কয়েক দিন আগে জামায়াতে ইসলামীর আমির (শফিকুর রহমান) এসেছিলেন। জান্নাত বিক্রি করে গেছেন। জামায়াত আমির মুক্তিযুদ্ধের নতুন ইতিহাস জনগণকে জানিয়ে গেছেন, কর্নেল অলি নাকি স্বাধীনতার ঘোষক। জামায়াতে ইসলামী একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতা করেছিল, মা–বোনদের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছিল, ধর্ষণ করা হয়েছিল। সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছিল, সম্পদ লুট করেছিল। আজ সেই জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে কথা বলে।’
আজ শুক্রবার বিকেলে কক্সবাজার শহরের বাহারছড়াস্থ গোলচক্কর এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে কক্সবাজার-৩ (সদর, রামু, ঈদগাঁও) আসনের বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের শেষ নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনিও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে দলের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রচারণার ফাঁকে শহরের এই জনসভায় যোগ দেন।
লুৎফুর রহমানের শেষ জনসভায় যোগ দিতে দুপুর থেকে কক্সবাজার পৌরসভা, কক্সবাজার সদর, রামু ও ঈদগাঁও উপজেলা থেকে হাজারো নারী-পুরুষ দলে দলে বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে জড়ো হতে থাকেন। বিকেল চারটার আগেই মাঠ পূর্ণ হয়ে বাইরের সড়কে ছড়িয়ে পড়ে।
এ দেশের আলেম সমাজ বিএনপির সঙ্গে আছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন চাই না। ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চাই। উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির স্বার্থে, প্রগতি, প্রযুক্তি ও স্বনির্ভর শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ধানের শীষে পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
সালাহউদ্দিন বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন বিএনপি স্বাধীনতা ও মুক্তিযোদ্ধা চেতনার বিশ্বাসী গণমানুষের দল। গণতন্ত্রকামী মানুষ বিএনপির পাশে থাকবে।
সালাহউদ্দিন আরও আহমদ বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের ১৮ কোটি মানুষের হাতকে কর্মের হাতে পরিণত করবে। জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও হেলথ কার্ড চালু করা হবে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের সুযোগ পেলে গভীর সমুদ্রবন্দর, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা হবে। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ছয় লেনে উন্নীত করা হবে।
জনসভায় বিএনপি প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির মৎস্যজীবী–বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান বলেন, কক্সবাজার বিএনপির ঘাঁটি। এবারও জনগণের বিপুল সাড়ায় তিনি মুগ্ধ। বিএনপি সরকার গঠনের সুযোগ পেলে কক্সবাজার হবে আধুনিক পর্যটন নগরী। এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি এখানে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির আশ্বাস দেন বিএনপির এই প্রার্থী।
কক্সবাজার পৌরসভা বিএনপির সভাপতি রফিকুল হুদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পিপি শামীম আরা স্বপ্না, বিএনপি নেতা রাশেদ মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।