গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির জন্য ঘোড়া জবাই, ১৩ দিনেও ধরা পড়েনি প্রতারক চক্র
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচলে গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির জন্য ঘোড়া জবাইয়ের ঘটনায় অভিযান চালানোর ১৩ দিন পার হলেও প্রতারক চক্রের কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
গত ২৭ মার্চ জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে (৯৯৯) ফোন পেয়ে র্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে পূর্বাচলের ১০ নম্বর সেক্টরের হারারবাড়ি এলাকার একটি প্লট থেকে ১২টি জবাই করা ও ২৫টি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করে। অভিযান চলাকালে একটি ঘোটকী সেখানেই বাচ্চা প্রসব করে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সংঘবদ্ধ একটি চক্র দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কম দামে বয়স্ক ঘোড়া কিনে এনে সেগুলো জবাই করে গরুর মাংস বলে বিক্রি করে আসছিল। বাজারে যেখানে গরুর মাংসের কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, সেখানে ঘোড়ার মাংসের মূল্য প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পড়ে। চক্রটি ঘোড়ার মাংসকে গরুর মাংস বলে বিক্রি করে আসছিল। এই মাংস রূপগঞ্জসহ রাজধানীর বিভিন্ন মাংসের দোকান ও খাবার হোটেলে সরবরাহ করা হতো। অভিযানে উদ্ধার হওয়া ঘোড়াগুলোর বেশির ভাগই ছিল দুর্বল ও অপুষ্ট এবং বয়স্ক। ঘোড়াগুলো মালামাল বহনের অনুপযোগী ছিল। সেখান থেকে ঘোড়ার হাড়ও উদ্ধার করা হয়েছিল। উদ্ধার করা ঘোড়ার মাংস প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয় এবং জীবিত ২৫টি ঘোড়া ৩টি রিসোর্টে পালনের জন্য দেওয়া হয়।
এলাকাবাসী জানায়, পূর্বাচলের অনেক প্লট খালি পড়ে আছে। উঁচু সীমানাপ্রাচীর ঘেরা ও ফটক লাগানো প্লটে কাভার্ড ভ্যান বা ট্রাকে করে গভীর রাতে ঘোড়াগুলো আনা হতো। তারপর সেগুলো জবাই করে বস্তায় ভরে গরুর মাংস বলে হাটবাজার, খাবার হোটেলসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করত চক্রটি।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ঘোড়ার মাংসকে গরুর মাংস হিসেবে বিক্রি করে একটি চক্র প্রতারণা করে আসছিল। দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ চক্রটি গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে থেকে বয়স্ক ঘোড়া এনে জবাই করে গরুর মাংস বলে বিক্রি করে আসছিল। তিনি আরও বলেন, জবাই করা ঘোড়া প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। জীবিত ঘোড়াগুলো তিনটি রিসোর্টে এবং এক ব্যক্তির কাছে পালনের জন্য দেওয়া হয়েছে।
ঘোড়ার মাংসকে গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির সঙ্গে জড়িত চক্রটিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোক্তার হোসেন।
এর আগে ২০২৫ সালের ১ জুলাই একই এলাকায় ৫টি ঘোড়া জবাইয়ের ঘটনা ঘটে। সে সময় রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে জবাই করা ঘোড়ার মাংস উদ্ধার করে মাটিচাপা দেওয়া হয়।