সিলেটে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ১২ সদস্যের কমিটি

সিলেটের ঐতিহাসিক মাজারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নসংক্রান্ত বিষয়ে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর। আজ শুক্রবারছবি: প্রথম আলো

সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এক মাসের মধ্যে কমিটি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি যৌক্তিক ও সমন্বিত কাঠামোর সুপারিশ দেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আজ শুক্রবার সকালে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এর আগে মাজারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, জেলা পরিষদের প্রশাসক, সিলেট উন্নয়ন সংস্থার প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার এবং মাজারের মোতোয়ালিদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এর আগে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সিলেট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে ১৮ জুন বিকেলে মাজারে থাকা আগের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি মাজারে মানুষের দান করা নগদ অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী রাখার ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগও সিলগালা করা হয়। দানবাক্স ও ডেগ সিলগালার পর জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের পক্ষে-বিপক্ষে সিলেটজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এক পক্ষের দাবি, মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে জেলা প্রশাসক কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছেন। অন্যদিকে আরেক পক্ষের অভিযোগ, মাজারে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার নামে তাঁর সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো ছিল একতরফা ও জোরপূর্বক, যা মাজারকেন্দ্রিক প্রচলিত ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এ আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই ২১ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে সংযুক্ত করা হয়। এর পরদিন তাঁর উপস্থিতিতে দানবাক্স সিলগালার চার দিন পর জনসমক্ষে বাক্সের তালা খুলে টাকা গণনা করা হয়। গণনায় প্রায় ১৮ লাখ টাকা পাওয়া যায়। এর পর থেকে মাজারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরই মধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে কমিটি গঠনের ঘোষণা দিলেন।

আরও পড়ুন

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার সিলেটের অন্যতম পরিচয় এবং এটি সিলেটবাসীসহ দেশের মানুষের আবেগের কেন্দ্র। এ কারণে মাজারসংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে মানুষের গভীর আগ্রহ ও নজর থাকে। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন নিয়ে আলোচনায় উপস্থিত সবাই স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন কমিটিতে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও সিলেট উন্নয়ন সংস্থার প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার, মাজারের মোতোয়ালি পরিবারের দুই প্রতিনিধি এবং মাদ্রাসা ও মসজিদের দুই প্রতিনিধি থাকবেন। কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সিলেটের জেলা প্রশাসক।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘এই কমিটির প্রধান লক্ষ্য পুরো ব্যবস্থাপনার মধ্যে পরিপূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। আগামী এক মাসের মধ্যে আমরা একটি যৌক্তিক পদ্ধতি নির্ধারণ করব এবং তা দেশের মানুষের সামনে উপস্থাপন করব।’

বর্তমান অর্থ সংগ্রহের পদ্ধতি আপাতত অপরিবর্তিত থাকবে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দানবাক্সে যেভাবে টাকা জমা হচ্ছে, সেভাবেই চলবে। বাক্স পূর্ণ হলে কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে টাকা গণনা করা হবে এবং নির্ধারিত একটি ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে, যা জেলা প্রশাসক পরিচালনা করবেন। বাক্সগুলো সিসিটিভির আওতায় আছে।’