মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে ইউএনওর ‘দুর্ব্যবহার’, প্রতিবাদে সভা বর্জন

সুনামগঞ্জ জেলার মানচিত্র

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের মাসিক সাধারণ সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দুর্ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছা. সুফিয়া খানম। এ ঘটনায় তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক সাধারণ সভায় এ ঘটনা ঘটে।

সুফিয়া খানম প্রথম আলোকে বলেন, উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁর সঙ্গে অসহযোগিতা ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন। গতকাল মাসিক সাধারণ সভায় তিনি উপজেলা পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন তহবিলের (এডিপি) ২০২২-২৩ অর্থবছরের ৯৫ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রকল্প নিয়ে কথা বলতে চাইলে ইউএনও বাধা দেন এবং দুর্ব্যবহার করেন। নিরুপায় হয়ে তিনি সভা ত্যাগ করে চলে আসেন।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, ‘উপজেলা পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন তহবিলে ইউএনওর মনগড়া প্রকল্পের অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি আমার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে অশালীন আচরণ করেন। ঘটনাটি আমি সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানিয়েছি।’

তবে এই অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন ইউএনও সাজেদুল ইসলাম। আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি কোনো দুর্ব্যবহার করছি বলে মনে হয় না। সভায় তো চেয়ারম্যানেরা ছিলেন। তাঁদের কাছ থেকে জানতে পারবেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরে বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমি বলেছি এগুলো এই সভায় আলোচনা না করে পরে আলোচনা করা যেতে পারে। তারপর তিনি চলে যান।’

ভায় উপস্থিত চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সভায় ইউএনও ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়েছে। আমরা বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করছি।’

এডিপির প্রকল্প নিয়ে ইউএনও ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের মধ্যে সামান্য ভুল–বোঝাবুঝি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন সভার সভাপতি উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবুল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমার বক্তব্যের আগে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সভা থেকে চলে যাওয়ায় সভায় বিষয়টি শেষ করতে পারিনি। ভুল–বোঝাবুঝির বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দিতে চেষ্টা করব।’