আদরের ছোট ছেলে বিমানবন্দরে এসেছিল বাড়ি নিতে, মায়ের চোখের সামনেই প্রাণ গেল
সৌদি আরব থেকে পবিত্র ওমরাহ করে ফিরছিলেন ইয়াসমিন আক্তার(৪০)। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে নিতে এসেছিল ১৬ বছরের কিশোর ছেলে ওবায়েদ। সঙ্গে ছিলেন বোন, বোনের স্বামী ও চাচাতো ভাই। বিমানবন্দর থেকে মাইক্রোবাসে তাঁরা রওনা দেন কক্সবাজারের রামুর ঈদগড়ের বাড়ির দিকে। পথে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চুনতির নলবনিয়ায় একটি কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে উল্টে যায় মাইক্রোবাসটি। গাড়িতে থাকা সবাই আহত হন। ওবায়েদের অবস্থা ছিল গুরুতর। কাছের একটি হাসপাতালে তাকে দ্রুত নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
আজ বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কিশোর মো. ওবায়েদ উল্লাহর বাবা সামছুল আলম সৌদিপ্রবাসী। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সবার ছোট ওবায়েদ স্থানীয় একটি স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ত। এ ঘটনায় তার মা ইয়াসমিন আক্তার, বোন ফাহিমা আক্তার (২০), ফাহিমার স্বামী ইয়াছির আরাফাত (৩৫) এবং চাচাতো ভাই ইয়াছিন আরাফাতও (২৫) আহত হন। তাঁদের লোহাগাড়ার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নিহত কিশোরের চাচা ও ঈদগড়ের ইউপি সদস্য বেলাল উদ্দিন বলেন, ওবায়েদের মা ইয়াসমিন আক্তার পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন। দুপুরে মাইক্রোবাসে বাড়ি ফেরার পথে চট্টগ্রামমুখী একটি মিনি কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি মহাসড়ক থেকে পশ্চিম পাশে পড়ে উল্টে যায়। স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানান, ওবায়েদ বেঁচে নেই। এ ঘটনায় গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। এমন মৃত্যু মানতে পারছে না কেউ।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক রুহুল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি জব্দ করে। তবে দুই গাড়ির চালক পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।