default-image

ওই প্রকল্পের শেষের দিকে বেনারসিশিল্পের প্রসারে উৎপাদিত শাড়িসহ অন্যান্য কাপড় প্রদর্শন ও বিক্রির জন্য ২ হাজার ২৫২ বর্গফুট আয়তনের দোতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয় ২৮ লাখ ২৬ হাজার টাকা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বেনারসিপল্লি উন্নয়নে দ্বিতীয় প্রকল্প চালু না হওয়ায় মুখ থুবড়ে পড়ে তাঁতিপাড়ায় নির্মিত বিসিকের বিক্রয় ও প্রদর্শনী কেন্দ্রটি।

গত রোববার সরেজমিনে দেখা গেছে, বিসিকের বিক্রয় ও প্রদর্শনীর ভবনটি বেহাল। ব্যবহার না করায় চারপাশ আগাছায় ভরে গেছে। দেয়াল স্যাঁতসেঁতে। ভবনের পলেস্তারা খসে পড়েছে। ভেতরের দরজা-জানালাসহ আসবাবও নষ্টপ্রায়। সীমানাপ্রাচীর ভেঙে গেছে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গজঘণ্টা হাবু তাঁতিপাড়ার বেনারসিপল্লির প্রায় আট হাজার পরিবার এখনো এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। তাঁতিদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাঁদের কারখানাগুলোয় তৈরি হচ্ছে বেনারসি শাড়ি। এ ছাড়া তৈরি হয় নিট কাতান, রেশমি কাতান, রিমঝিম কাতান, প্রিন্স কাতান, জামদানি, বারবুটা, কুচিকাটা, ফুলকলিসহ হরেক শাড়ি ও থ্রি–পিস। ঢাকা, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এখানকার পণ্য কিনে নিয়ে যান। বিসিকের বিক্রয়কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন ও বিপণনে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাঁতিদের।

দুই দশক আগে এখানে তাঁতশিল্পের সূচনা করেন তাঁতি আবদুর রহমান (৬০)। প্রথম আলোকে তিনি জানান, হাবু গ্রামের অধিকাংশ মানুষ এই তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত। একসময় ছয় শতাধিক তাঁত ছিল এই পল্লিতে। এখন তা কমে ১০০-তে দাঁড়িয়েছে। তাঁতিদের উৎসাহ দিতে বিসিক যে ভবন নির্মাণ করে, সেখানে তাঁতিদের প্রশিক্ষণসহ বিপণনের ব্যবস্থা চালু ছিল। কিন্তু ৯ বছর ধরে ভবনটির কার্যক্রম বন্ধ।

বিভিন্ন উদ্যোক্তার কারখানায় চুক্তিভিত্তিক কাজ করেন তাঁতশিল্পী রাশেদা বেগম। তিনি বলেন, এখানে বেনারসি কাপড় বিক্রয় ও প্রদর্শনী কেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও তা কাজে আসছে না। এটি চালু হলে তাঁতশিল্পে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে।

ফাইয়াজ বেনারসির স্বত্বাধিকারী ফরিদা রহমান বলেন, বেনারসিশিল্পের উন্নয়নে দ্বিতীয় প্রকল্প চালু না হওয়া সত্যিই দুঃখজনক। প্রকল্প না থাকায় পল্লিতে দক্ষ কারিগরের সংকট দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রংপুর বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক মো. শামীম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বেনারসিপল্লি উন্নয়ন প্রকল্পের শেষের দিকে ভবনটি নির্মিত হলেও পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় প্রকল্প আর চালু হয়নি। ফলে ভবনটিতে কোনো কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়নি।

ভবনটি ভাড়া দেওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় তাঁতিদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে প্রকল্প চালু ও ভবনটি ব্যবহারের উপযোগী করতে মন্ত্রণালয়ে কাগজপত্র পাঠিয়েছি। কিন্তু এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন