পুলিশ, জেলে ও প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেলা তিনটার দিকে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উজ্জ্বল মোহাম্মদ হোসাইনের নেতৃত্বে উপজেলার ইলশা গ্রামের মৃগী নদীতে অভিযান চালানো হয়। অভিযান সহযোগিতা করেন জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সুলতানা লায়লা তাসলিম ও সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মমতাজুন্নেছা। অভিযানে বিপুল পরিমাণ কারেন্ট ও চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। এসব জাল মৃগী নদী-সংলগ্ন ইলশা ঘাটে এনে জড়ো করা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উজ্জ্বল মোহাম্মদ হোসাইন জব্দ করা জাল পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। এ সময় পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত জেলে সাউথ আলী, জবেদ আলী ও ইয়াকুব আলী গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হন। পরে স্থানীয় এলাকাবাসী তাঁদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান।

এদিকে এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে মৎস্য কর্মকর্তা সুলতানা লায়লা তাসলিম, মমতাজুন্নেছাসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং ঘটনার জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. হান্নান মিয়া, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম, ভাতশালা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নাজমুন্নাহার ও লছমনপুর ইউপির চেয়ারম্যান মো. আবদুল হাই ঘটনাস্থলে যান। এ ঘটনায় দায়ীদের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থার আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাঁদের ছেড়ে দেন।

ইলশা ছনকান্দা ব্যাপারীপাড়া গ্রামের জেলে আনছার আলী সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, মৎস্য কর্মকর্তারা মৃগী নদীতে অভিযান চালিয়ে নৌকা দিয়ে চায়না দুয়ারি জাল ইলশা গুদারাঘাটে নিয়ে আসেন। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে ও মৎস্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জালগুলোয় পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। আগুনে তিনজন জেলের শরীর মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়। জালে আগুন দেওয়ার আগে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল থেকে এলাকাবাসীকে সরে যাওয়ার কোনো নির্দেশ দেননি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মমতাজুন্নেছা প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা ইলশা ঘাটে জব্দ করা জাল এনে জড়ো করেন। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী জালগুলো পোড়ানোর আগে ব্যানার টাঙিয়ে ছবি ও ভিডিও করার প্রস্তুতির সময় আদালতের নির্দেশ ছাড়াই স্থানীয় একজন সেখানে পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দিলে সেই আগুনে তিনজন দগ্ধ হন। এই ঘটনার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নান মিয়া বলেন, খবর পেয়ে সদর থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ কর্মকর্তাদের উদ্ধার করে। বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন