দাউদকান্দিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৫ কিলোমিটার যানজট, ভোগান্তি

ভোরের পর থেকেই ধীরে ধীরে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার রাজারহাট থেকে গৌরীপুর পর্যন্ত সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। আজ সকালে গৌরীপুর এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেছবি: প্রথম আলো

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার রাজারহাট থেকে গৌরীপুর পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ভোর চারটা থেকে শুরু হওয়া এ যানজটে আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী, চালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরের পর থেকেই ধীরে ধীরে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে রাজারহাট থেকে গৌরীপুর পর্যন্ত সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে অন্যতম ব্যস্ত এ মহাসড়কে যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। এ প্রতিবেদন লেখার সময় বেলা পৌনে ১১টার দিকে মহাসড়কে পাঁচ কিলোমিটার যানজট দেখা যায়।

সকাল সাড়ে নয়টার দিকে গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় চিকিৎসক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, সকাল ছয়টায় ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে রাজারহাট এলাকায় এসে যানজটে পড়েন। পাঁচ মিনিটের পথ পার হতে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই প্রায়ই এ স্থানে এমন ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

ঢাকা থেকে নোয়াখালীগামী আল আরাফাহ পরিবহনের বাসের যাত্রী ও কুমিল্লা আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ সৃষ্ট এ যানজটে আটকে পড়েছেন তিনি। এতে নির্ধারিত সময়ে আদালতে পৌঁছানো সম্ভব হবে না।

এমন যানজটের কারণ জানতে চাইলে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, যানবাহনের চাপ এবং এলোমেলোভাবে যানবাহন চলাচলের কারণে এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে।

তবে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ও চালকদের অভিযোগ, সকালে দায়িত্ব শেষ করে হাইওয়ে পুলিশ সদস্যরা সরে যাওয়ার পর অনেক চালক মহাসড়কের উল্টো লেনে গাড়ি চালাতে শুরু করেন। এতে যানজটের তৈরি হয়।

সকালে মহাসড়কের স্বল্পপেন্নাই এলাকায় যানজটে আটকে ছিলেন চট্টগ্রামগামী মাইক্রোবাসের চালক জনি মিয়া। তিনি বলেন, হাইওয়ে থানার পুলিশ রাতভর দায়িত্ব পালন করার পর সকালে ঘুমাতে যায়। এ সুযোগে অসংখ্য যানবাহনের চালক উল্টো পথে যানবাহন চালাতে গিয়ে নিয়মিতভাবে একই স্থানে যানজটের সৃষ্টি করেন। এ জন্য কার্যকর কোনো সমাধান নেওয়া হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের।