নিজ দলের এমপির বিরুদ্ধে উপজেলা বিএনপির সংবাদ সম্মেলন, সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আদিতমারী উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন। সোমবার বিকালেছবি: প্রথম আলো

লালমনিরহাট-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিনের (বাবুল) বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা অমান্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন আদিতমারী উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের একাংশের নেতারা। তাঁদের ভাষ্য, নির্বাচনের পর থেকে সংসদ সদস্য নিজের মতো করে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন।

আজ সোমবার বিকেল পাঁচটায় আদিতমারী উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের শিরোনাম ছিল ‘সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন’।

অভিযোগের বিষয়ে প্রথম আলোকে মুঠোফোনে রোকন উদ্দিন বলেন, ‘আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে এবং আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেলে আদিতমারীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন–উত্তর যে কর্মী মূল্যায়ন সভা আহ্বান করেছি, সেটা বানচালের জন্য আমার বিরুদ্ধে অসত্য অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করছি। এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতদের অধিকাংশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কৌশলে আমার বিরোধিতা করেছেন, তাঁরা চেয়েছেন আমি যাতে এমপি নির্বাচিত না হই। এখন আমি এমপি, তাঁরা নানা অজুহাতে আমার বিরোধিতা করে চলছেন।’

ইতিমধ্যে তিনি (সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন) তাঁর নিজস্ব স্বার্থ হাসিল করার জন্য আদিতমারী বিএনপিকে বিভক্ত করেছেন; নিজেদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দলীয় কাঠামো ভেঙে নিজ অনুসারী তৈরি করে বিএনপিকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছেন। এমপির এমন কুকর্মে আদিতমারী উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ–সহযোগী সংগঠন অত্যন্ত মর্মাহত। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং দুর্নীতি, অনিয়ম ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
সালেকুজ্জামান প্রামাণিক, সাবেক সদস্যসচিব, আদিতমারী উপজেলা বিএনপি

লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব সালেকুজ্জামান প্রামাণিক। লিখিত বক্তব্যের বাইরেও সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন তিনি। সালেকুজ্জামান বলেন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে রোকন উদ্দিন দলের সঙ্গে কোনো সমন্বয় করেন না। নিজ স্বার্থ গুছিয়ে চলছেন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলাম এবং স্বার্থান্বেষী মহলের সঙ্গে যোগসাজশে ইচ্ছেমতো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। এতে এলাকায় বিএনপির ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

লালমনিরহাট–২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন
ছবি: সংগৃহীত

লালমনিরহাট-২ আসনটি আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. ফিরোজ হায়দারকে হারিয়ে নির্বাচিত হন রোকন উদ্দিন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, নির্বাচনের পর রোকন উদ্দিন কর্মীদের নিয়ে কোনো ধরনের মূল্যায়ন সভা বা এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেননি। এর মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় এবং রংপুর বিভাগীয় নির্দেশনা অমান্য করে তিনি আগামীকাল বিকেলে আদিতমারী জিএস মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে দলের নাম ভাঙিয়ে একটি বিধিবহির্ভূত সভার আহ্বান করেছেন। এ বিষয়ে মূল বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের মূল নেতারা কিছুই জানেন না।

একটি ঘটনা উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৫ আগস্ট বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময় বেলা ১১টায় শেষ করা হয়। পরে বিধিবহির্ভূতভাবে নেতৃবৃন্দকে না জানিয়ে এমপির নির্দেশে দুপুরে আদিতমারী উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে আরেকটি সভা করা হয়। বিষয়টি তৃণমূল নেতা–কর্মীদের ক্ষুব্ধ করে তোলে।

লিখিত বক্তব্যে সবশেষে বলা হয়, ‘ইতিমধ্যে তিনি (সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন) তাঁর নিজস্ব স্বার্থ হাসিল করার জন্য আদিতমারী বিএনপিকে বিভক্ত করেছেন; নিজেদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দলীয় কাঠামো ভেঙে নিজ অনুসারী তৈরি করে বিএনপিকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছেন। এমপির এমন কুকর্মে আদিতমারী উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ–সহযোগী সংগঠন অত্যন্ত মর্মাহত। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং দুর্নীতি, অনিয়ম ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।’

সংবাদ সম্মেলনে লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নাদিরুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আবু ইয়াহিয়া ইউনুছ আহম্মেদ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হাসানুল বান্না, সদস্যসচিব আবু বাক্কার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাহারিয়ার আলম, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবদুল হালিমসহ অন্য নেতা–কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

রোকন উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদিতমারী উপজেলা বিএনপির সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে জানতে দলের লালমনিরহাট জেলার সভাপতি ও রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে প্রথম আলো। তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে প্রশ্ন পাঠালেও জবাব দেননি।