কক্সবাজারের টেকনাফে মাথায় ও পায়ে আঘাত পাওয়া একটি মা হাতি শাবকসহ আশ্রয় নিয়েছে স্থানীয় কোস্টগার্ড কার্যালয়ে। আহত হাতিটি পাশের নেটং পাহাড়ের বন থেকে লোকালয়ে আসে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাতিটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিজেদের হেফাজতে নিয়েছেন।
আজ শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের কেরনতলীর নেটং পাহাড় থেকে হাতিটি নেমে আসে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের টেকনাফ বন বিট কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ। তিনি বলেন, মাথা ও পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত মা হাতিটি বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সুস্থ হওয়ার পর হাতিটিকে বনাঞ্চলে ফেরত পাঠানো হবে।
টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নজির আহমদ বলেন, মা হাতিটি বিকেল পাঁচটার দিকে হঠাৎ নেটং পাহাড় থেকে নেমে সড়কে কিছুক্ষণ অবস্থান নেয়। এরপর হাতিটি হেঁটে পাশের কোস্টগার্ড কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। বিষয়টি বন বিভাগকে জানানো হলে বন কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাতিটি উদ্ধার করেন। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দিন আগে বনাঞ্চলের ভেতরে হাতিটি আহত হয়। তবে কীভাবে এটি আহত হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় লোকজন ও বন কর্মীরা জানান, বনাঞ্চল উজাড়ের কারণে পাহাড়ে বন্য হাতির তীব্র খাদ্যসংকট চলছে। হাতি চলাচলের করিডর, জলাশয়-ছড়াও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। খাদ্যের সন্ধানে প্রায় সময় দল বেঁধে হাতিরা লোকালয়ে নেমে এসে লোকজনের ফসল গাছপালা খেয়ে ফেলছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও কেরনতলীর বাসিন্দা আব্দুর শুক্কুর বলেন, বিকেল পাঁচটার দিকে আহত হাতিটি তাঁর বাড়ির পশ্চিম পাশের পাহাড় থেকে নিচে নেমে আসে। পরে সেটি হেঁটে কোস্টগার্ড কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। হাতিটির মাথা ও ডান পায়ে আঘাতের চিহ্ন এবং হাতিটিকে দুর্বল অবস্থায় দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, তিন দিন ধরে কেরনতলী পাহাড় ও বনাঞ্চলে আহত হাতিটিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে।