নারায়ণগঞ্জে সুদের টাকা লেনদেনে বিরোধের জেরে তরুণকে হত্যা, গ্রেপ্তার ১
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে সুদের টাকা লেনদেনের বিরোধের জেরে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার রাতে উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের পরমেশ্বরদী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত নাঈম হোসেন (২২) ওই গ্রামের মৃত আবদুল হেকিমের ছেলে। সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিবুল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত নাঈমের বড় ভাই নাছিমুল বলেন, গতকাল রাত নয়টার দিকে নিজেদের বাড়ির ২০০ গজ দূরে খালের পাশের একটি খোলা মাঠ থেকে নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে আজ সকালে সোনারগাঁ থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।
নাছিমুল জানান, এগারো ভাই–বোনের মধ্যে নাঈম সবার ছোট। শৈশবে মা-বাবাকে হারিয়ে ভাইবোনদের কাছে বড় হয়েছেন তিনি। বড় ভাই নাছিমুল রাজমিস্ত্রির ঠিকাদার। নাঈম তাঁর সঙ্গেই রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। গত রাতে হত্যার আগেও পাশাপাশি চায়ের দোকানে ছিলেন এ দুই ভাই। অজ্ঞাতপরিচয় একটি ফোন পেয়ে কথা বলতে বলতে সেখান থেকে চলে যান নাঈম।
ঘটনার আগের সময়ের বর্ণনা দিতে গিয়ে নাছিমুল বলেন, ‘রাত সাড়ে আটটার দিকে আমরা চা খাচ্ছিলাম। ওর ফোনে একটি কল আসে। কার সঙ্গে যেন ফোনে বলছিল, “আমার কাছে টাকা নাই।” দুই-তিনবার এই কথা বলেছে। ও তখন একটু দূরে দাঁড়িয়ে কথা বলছিল। আমি কিছু জিজ্ঞাসা করিনি। কিছুক্ষণ পর দেখি ভাই আমার সেখানে নাই। একটু পর আমিও বাড়িতে চলে যাই। বাড়িতে এসে ছোট ভাইকে মোবাইলে কল দিলে ফোন বন্ধ পাই।’
বাড়িতে যাওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যেই বাইরে হইচই শুনতে পেয়ে বেরিয়ে আসেন নাছিমুল। পরে এলাকাবাসীর সঙ্গে বাড়ির পাশের খালি মাঠটিতে গিয়ে নাঈমের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক নাঈমকে মৃত ঘোষণা করেন। নাছিমুল বলেন, রক্তের কারণে নাঈমের চেহারা চেনা যাচ্ছিল না। এলাকার লোকজন তাঁকে চিনতে পারেনিন। জামাকাপড় দেখে নাছিমুল নাঈমকে চিহ্নিত করেন।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিবুল্লাহ বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করি। নিহত ব্যক্তির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে পেশায় রাজমিস্ত্রি নাঈম সুদের বিনিময়ে মানুষকে টাকা ধার দিতেন। এ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’