জাল সনদে চাকরি, পুলিশ সদস্যসহ আটজনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে চাকরিপ্রার্থী ও সনদ যাচাইয়ে দায়িত্বে থাকা পুলিশের বিশেষ শাখার সদস্যসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ সোমবার দুদক চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক সাঈদ মো. ইমরান হোসেন বাদী হয়ে নিজ কার্যালয়ে মামলাটি করেন।
মামলার আসামিরা হলেন বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকার গাড়িচালক খালেদ মোশাররফ, সুইপার স্বপন সরকার, নিরাপত্তাকর্মী ফরিদ আহমেদ ও আলমগীর হোসেন এবং পুলিশের বিশেষ শাখার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ রফিক, আবদুল বাতেন, আতিকুর রহমান ও সহকারী উপপরিদর্শক মনির হোসেন।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, বন গবেষণা ইনস্টিটিউটে গাড়িচালক, সুইপার ও নিরাপত্তাকর্মী পদে নিয়োগ পেতে আসামিরা অষ্টম শ্রেণি পাসের জাল সনদ জমা দেন। সনদ যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা পুলিশের বিশেষ শাখার সদস্যরা এসব সনদ যাচাই করে সঠিক বলে প্রতিবেদন দেন। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই তাঁদের চাকরি হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটে গাড়িচালক, সুইপার ও নিরাপত্তাকর্মী পদে ৪০ জন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। ওই পদগুলোর জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল অষ্টম শ্রেণি পাস। পরে চারজনের সনদ জাল বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর দুদক অনুসন্ধান শুরু করে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট চারজনের শিক্ষাগত সনদ জাল হলেও পুলিশের বিশেষ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা সেগুলো যাচাই করে আসল সনদ বলে প্রতিবেদন দেন। পুলিশের ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চারজন চাকরি পান। পরে গত বছরের ২৯ জুন পর্যন্ত তাঁরা জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি করে বেতন–ভাতা বাবদ সরকারি কোষাগার থেকে প্রায় ৮২ লাখ টাকা নেন। এ কাজে পুলিশ সদস্যরা তাঁদের সহযোগিতা করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।