‘এই কম্বলে ভালো হইল, এহন রাইতে কম জার করব’

প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে জামালপুর শহরের মুকুন্দবাড়ি এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

ছফুরা বেগমের (৬০) দিন কাটে অনাহারে–অর্ধাহারে। আগের কম্বলটি নষ্ট হয়ে গেছে; এবারের শীত কেটেছে কাঁথা গায়ে। নতুন কম্বল পেয়ে তিনি বেশ খুশি। তিনি বলেন, ‘মাইনষের বাইত (বাড়ি) চাইয়ে–চিমটে খাই, মাইনষের বাড়িত থাহি। আগের বছর এডা (একটি) কম্বল পাইছিলাম, হেডা (সেটা) ইঁন্দুরে কাইটে ফেলছে। আমগোরে এহানে খেতা (কাঁথা) দিয়ে শীত কাটে না, রাইতে হাড়ে হাড়ে জার (ঠান্ডা) করে। তুমগোরে কম্বলডা পাইয়া খুব উপকার হইল, এহন শান্তিতে ঘুমাইতে পারমু।’

আজ শুক্রবার একটি কম্বল হাতে পেয়ে আনন্দে কথাগুলো বলছিলেন ছফুরা বেগম (৬০)। তিনি জামালপুর শহরের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী চালাপাড়া এলাকায় বসবাস করেন।

আরও পড়ুন

সকালে জামালপুর শহরের মুকুন্দবাড়ি এলাকায় এমন ২০০ শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে এই কম্বল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন জামালপুর বন্ধুসভার সদস্যরা। এতে মুকুন্দবাড়ি, পূর্ব মুকুন্দবাড়ি, ডাকপাড়া, চালাপাড়া ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ের এলাকার শীতার্ত নারী–পুরুষ অংশ নেন।

বেলা ১১টার দিকে কম্বল বিতরণ শুরু হয়। এ সময় কম্বল নেন খাদিজা বেগম (৮০)। গালভরা হাসি ছড়িয়ে তিনি বলেন, ‘গাঙের পাড়ে বাড়ি। আইতের (রাত) বেলা ঘরে বাতাস হু হু করে ঢোকে। তখন খুব জার লাগে। এই কম্বলে ভালো হইল। এহন রাইতে কম জার করব।’

আরও পড়ুন

চালাপাড়া এলাকার বাসিন্দা রোবিয়া খাতুন (৪৮) কম্বল পেয়ে বলেন, ‘মানুষের বাসাবাড়িতে রান্নার কাজ করি। সারা দিন কাজ কইরা আইতে বাড়ি যাই। তখন খুব শীত লাগে। এহন রাইতে এই কম্বল গায়ে দিয়া বাড়ি ফিরতে পারমু।’

মুকুন্দবাড়ি এলাকা থেকে কম্বল নিতে আসেন শারীরিক প্রতিবন্ধী ফজুল মিয়া (৪৫)। তিনি বলেন, কম্বল কিনমু কেমনে? খেতা দিয়া কোনো রহমে থাকি। এই পত্থম কম্বল পাইলাম। খেতা আর কম্বল মিলাইয়া রাইতে গায়ে দিমু।’

লাঠিতে ভর করে কম্বল নিতে আসেন ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ের বাসিন্দা আবদুর রহিম (৫৫)। তিনি বলেন, ‘স্ট্রোক কইরা ঘরেই পইড়া আছি। বুইড়া বয়সে কই যামু? তুমরাই প্রথম কম্বল দিলা। আমগোর মতো বুইড়া–বুড়িগোরে খুঁজে খুঁজে কম্বল দিছো—এডা খুব ভালো হইছে।’

কম্বল বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর জামালপুর প্রতিনিধি আব্দুল আজিজ, জামালপুর বন্ধুসভার উপদেষ্টা নাজমুল হাসান, সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন, সভাপতি অন্তরা চৌধুরী, সহসভাপতি মো. আসাদুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আমির হামজা, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাসেল মিয়া, সহসাংগঠনিক সম্পাদক বাকী বিল্লাহ, দপ্তর সম্পাদক নাহিদুল ইসলাম, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক নুসরাত ইসলাম, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক তাসবির রহমান, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক জোবাইর আহম্মদ, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক মো. হৃদয়, বইমেলা সম্পাদক নাইমুল শাকিল এবং সদস্য কাঁকন ও বিজয়।

শীতার্তদের সহায়তায় আপনিও এগিয়ে আসুন

শীতার্ত মানুষের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন। সহায়তা পাঠানো যাবে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে। হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল, হিসাব নম্বর: ২০৭ ২০০০০ ১১১৯৪, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা। পাশাপাশি বিকাশে সহায়তার অর্থ পাঠাতে পারেন: ০১৭১৩০৬৭৫৭৬ এই মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট নম্বরে। এ ছাড়া বিকাশ অ্যাপে ডোনেশন অপশনের মাধ্যমেও অনুদান পাঠাতে পারেন।

আরও পড়ুন