স্থানীয় বিএনপির বিরোধিতার মধ্যেই নিজ নির্বাচনী এলাকায় অনুষ্ঠান করলেন রুমিন ফারহানা

আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ছবি: শাহাদৎ হোসেন

উপজেলা বিএনপি কর্তৃক অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং অনুষ্ঠান করতে না দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) মৌখিকভাবে বলার পরও নিজ নির্বাচনী এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনে অনুষ্ঠান করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

আজ শুক্রবার আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে উপজেলায় ২০২৫ সালের প্রাথমিকে বৃত্তিপ্রাপ্ত এবং ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রুমিন ফারহানার বাবা ভাষাসৈনিক অলি আহাদ স্মরণে উপজেলার আবদুল কাদির শাহ পাঠাগার এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এর আগে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিএনপিকে নিয়ে দেওয়া এক বক্তব্যের জেরে ১২ সেপ্টেম্বর আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আশুগঞ্জ বাজারে রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও ঝাড়ুমিছিল হয়। ওই কর্মসূচি থেকে আশুগঞ্জে তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।

এদিকে শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজন ঘিরে গত বুধবার দুপুরে আশুগঞ্জে উপজেলা পরিষদের পেছনের মাঠে রুমিন ফারহানার দুই অনুসারীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে বিএনপির নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে। হামলার শিকার দুজন হলেন আশুগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক আতাউর রহমান ও সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল বিপ্লব। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রুমিন ফারহানার পক্ষে নির্বাচন করায় তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

এ ছাড়া গত বুধবার উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সিরাজ ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানসহ উপজেলা বিএনপির নেতা–কর্মীরা আজকের অনুষ্ঠান বাতিলের জন্য ইউএনওর কাছে মৌখিকভাবে দাবি তোলেন। তাঁদের আপত্তির কারণে আজকের অনুষ্ঠান ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

শেষ পর্যন্ত কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আজকের অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানের নিরাপত্তার জন্য ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর টোলপ্লাজা থেকে আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বর পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন ছিলেন।

অনুষ্ঠান ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো
ছবি: বদর উদ্দিন

সহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির নিরাপত্তার জন্য যা করণীয়, আমরা সেই ব্যবস্থা করেছি। আজকের অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে আমার নেতৃত্বে পুলিশের ৫০ জন সদস্য মোতায়েন ছিলেন।’

এদিকে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন গ্রাম থেকে তাঁর অনুসারীরা দুই শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন। তাঁরা রুমিন ফারহানার পক্ষে নানা স্লোগান দেন।

অনুষ্ঠানে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনের সূচনা হয়। এরপর ভাষাসৈনিক অলি আহাদ যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, যে অবদান রেখেছেন তা আমাদের ইতিহাসে রচিত হয়নি। আমাদের দুর্ভাগ্য, আমাদের ইতিহাস রচিত হয় রাজনৈতিক বয়ানে।’

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমাদের ইতিহাস রচিত হয় যে দল যখন ক্ষমতায় থাকে, তার হাতের কলমে। যদি সেটা না হতো, তাহলে অলি আহাদ, মাওলানা ভাসানী (মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী), হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকদের জীবনী আরও বিস্তৃতভাবে আমরা জানতে পারতাম। তাঁদের সততা, দেশপ্রেম, সাহস, আপসহীনতা—এই বিষয়গুলো আমরা নতুন প্রজন্মকে জানাতে পারতাম।’

শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে লাঠিখেলাসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জামাল হোসেনসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের আয়োজক শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, উপজেলায় ২০২৫ সালে প্রাথমিকে বৃত্তিপ্রাপ্ত ও ২০২৬ সালে এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। মোট ১৯৫ জন শিক্ষার্থীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রুমিন ফারহানা বলেন, রাজনীতিতে ভিন্নমত থাকবে। রাজনীতিতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে। রাজনীতিতে এটা কিছু নয়। আমি মনে করি, রাজনীতিতে যেকোনো কথার জবাব মানুষ দেয়।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, বাংলাদেশের কোনো নাগরিক যেকোনো সময় বাংলাদেশ ছাড়তে পারেন, যেকোনো সময় বাংলাদেশে ঢুকতে পারেন। সংবিধানে এটি পরিষ্কার বলা আছে। বাংলাদেশে ঢোকার পর সরকার কী পদক্ষেপ নেবে, সেটা সরকার বলতে পারবে।