রাত জেগে মায়ের লিখে দেওয়া নোট পড়ে সফলতা পেল তাসমিয়া

মা কোহিনুর পারভীন ও আতিকুল ইসলামের সঙ্গে ছবি তুলছে মেয়ে তাসমিয়া ইসলাম। বনমালী শিল্পকলা কেন্দ্র, পাবনা। ১০ অক্টোবর ২০২৬ছবি: হাসান মাহমুদ

মা গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই মা রাতের পর রাত জেগে নোট লিখে দিয়েছেন। সেই নোট পড়ে আজকের এই সফলতা পেয়েছে বলে জানায় তাসমিয়া ইসলাম। শিখো–প্রথম আলো জিপিএ–৫ প্রাপ্ত কৃতী সংবর্ধনায় তাই মা কোহিনুর পারভীনকে নিয়ে এসেছে সে। এ সময় বাবা আতিকুল ইসলামও ছিলেন।

তাসমিয়া শহীদ বুলবুল সরকারি কলেজে ভর্তি হয়েছে। মা কোহিনুর পারভীন বলেন, ‘বড় মেয়ে তাসনিম মালিহা ২০১৬ সালে জিপিএ–৫ পেয়েছিল। কিন্তু সংবর্ধনা নিতে পারেনি। এবার ছোট মেয়ে পেয়েছে, তাকে নিয়ে এসেছি।’

বাবা সেলিম রেজা মুঠোফোনে মেয়ে সুমাইয়া তাবাচ্ছুমের ছবি তুলে দিচ্ছেন
ছবি: প্রথম আলো

প্রথম আলোর আয়োজনে ও শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত হচ্ছে জিপিএ–৫ প্রাপ্ত কৃতী সংবর্ধনা। ‘স্বপ্ন দেখো, জীবন গড়ো’ স্লোগানে সারা দেশে ২০২৬ সালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ–৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের ৬৪ জেলায় এ সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। এ সংবর্ধনার পাবনা পর্ব আজ শনিবার আয়োজন করা হয়েছে জেলার বনমালী শিল্পকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে।

আয়োজনটি পাওয়ার্ড বাই বিকাশ এবং সহযোগিতায় থাকছে কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা–গ্রী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও প্রথম আলো বন্ধুসভা।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস
ছবি: প্রথম আলো

মেয়েকে নিয়ে এসেছিলেন কৃষক বাবা

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের বড়ইচারা গ্রামের কৃষক সেলিম রেজা। ভোরে নিজের জমিতে একবার ঢুঁ মেরে বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর ছোট মেয়ে সুমাইয়া তাবাচ্ছুমকে মোটরসাইকেলে প্রায় ২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আসেন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে।

মিলনায়তন প্রাঙ্গণে দেখা যায়, বাবা সেলিম রেজা মুঠোফোনে যত্নে মেয়ের ছবি তুলে দিচ্ছেন। জিজ্ঞাসা করতেই সুমাইয়া জানায়, ছবিগুলো স্মৃতি হয়ে থাকবে। বাড়ি গিয়ে মা নুসরাত জাহানকে দেখাবে।

সুমাইয়ার বড় ভাই আছে। তারা এক ভাই ও এক বোন। সুমাইয়া এ বছর ঈশ্বরদীর মানিকনগর গার্লস হাইস্কুল থেকে এসএসসিতে জিপিএ–৫ পেয়েছে। উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হয়েছে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে। পড়াশোনা শেষ করে সুমাইয়া আইনজীবী হতে চায়।

সাংস্কৃতিক পর্বে গানে গানে মেতেছিল শিক্ষার্থীরা
ছবি: প্রথম আলো

বাবা সেলিম রেজা বলেন, ‘মেয়ে একটা সাফল্য পেয়েছে, তাকে সংবর্ধনা দেবে; আসতে তো হবেই।’

তাসমিয়া ও সুমাইয়াদের মতো কৃতী শিক্ষার্থীদের পদচারণে মূল অনুষ্ঠান শুরুর এক ঘণ্টা আগেই মিলনায়তন মুখর হয়ে ওঠে। প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী জড়ো হয়েছিল সেখানে। মিলনায়তন ৮০০ আসনের। বাকি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা মিলনায়তনের বাইরে বারান্দায় প্লাস্টিকের চেয়ারে বসেন।

সংবর্ধনার পাবনা পর্বের মূল অনুষ্ঠান সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। পাবনার প্রথম আলোর আলোকচিত্রী হাসান মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর পাবনা প্রতিনিধি সরোয়ার মোর্শেদ।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে পাবনা শহীদ বুলবুল সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ আখতার জামান বলেন, ‘তোমাদের আলো জ্বালাতে হবে, জ্বালিয়ে দিতে আরেকটি শিখা। পিছিয়ে পড়া বন্ধুকে সঙ্গে নেবে, ভালো কিছু করবে। আলো জ্বালিয়ে যাবে।’

পুরস্কার হাতে কুইজ বিজয়ী শিক্ষার্থীরা
ছবি: প্রথম আলো

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুল্লাহ্‌ বলেন, ‘তোমরা উজ্জ্বল নক্ষত্র। তোমাদের এই সাফল্য জীবনের প্রথম ধাপ। সামনে অনেক দূর যেতে হবে। মনে রাখবে, ভালো মানুষ হওয়া খুব দরকার। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে ভালো মানুষ হও।’

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান মীর হুমায়ুন কবীর শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের স্মার্ট হতে হবে। সামনে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায়ও জিপিএ–৫ পেতে হবে।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রথম আলোর রাজশাহীর নিজস্ব প্রতিবেদক আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ। এরপর কুইজ বিজয়ী ১০ কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার হিসেবে কিশোর আলো ও বিজ্ঞানচিন্তা ম্যাগাজিন তুলে দেন অতিথিরা।

কৃতী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে সুজানগর উপজেলা থেকে আসা শিক্ষার্থী উম্মে আফরিন অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য দেয়। সাংস্কৃতিক পর্বে নাচ পরিবেশন করেন বন্ধুসভার সদস্য মাইশা আলম। গান পরিবেশন করেন অরফিউজিক ব্যান্ডের শাহরিয়ার রাতিন। তাঁর পরপর ছয়টি গানে মেতেছিল শিক্ষার্থীরা।