মানববন্ধনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা—এক ইঞ্চি কৃষিজমিও ফেলে রাখা যাবে না, সেখানে খুলনার দাকোপ উপজেলার বাণীশান্তা ইউনিয়নের ১ হাজার ২০০ কৃষক পরিবার তাঁদের জমি হারাতে বসেছে। বাণীশান্তা ইউনিয়নের মোট কৃষিজমির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জায়গায় পশুর নদ খননের বালু ফেলে তিন ফসলি কৃষিজমি ভরাট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দলিত ও বঞ্চিত কৃষকদের উদ্বাস্তু করার চক্রান্ত করা হচ্ছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও এলাকার কিছু ভূমিদস্যু মিলে তিন ফসলি কৃষিজমির বিষয়টা গোপন করে তারা ওই জমি ডোবা, খাল, নালা, পরিত্যক্ত জলাশয় ও ফসলহীন অকৃষি জমি বলে সরকারের কাছে উপস্থাপন করেছেন।

বাণীশান্তার ওই কৃষিজমির মধ্যে সিংহভাগই দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর দাবি করে এসব মানুষকে উদ্বাস্তু জীবনের দিকে ঠেলে না দেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। তাঁরা বলেন, ওইসব কৃষকের সহায়–সম্বল বলতে কৃষিজমিটুকুই। সম্বলটুকু কেড়ে নিয়ে তাঁদের যাযাবরের মতো জীবন বেছে নিতে বাধ্য না করতে আহ্বান জানান বক্তারা। যদি তিন ফসলি জমিতে বালু ফেলার সিদ্ধান্ত থেকে কর্তৃপক্ষ সরে না আসে, তাহলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

সংগঠনের খুলনা জেলার সভাপতি সুব্রত কুমার মিস্ত্রীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবদুল হালিম, সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নিশিত রঞ্জন মিস্ত্রী, খুলনা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিবপদ দাশ, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক লক্ষ্মী দাশ, জেলা প্রচার সম্পাদক রাজেন রবিদাস, সদস্য  শান্তা মণ্ডল, গোবিন্দ চন্দ্র দাশ, বিকাশ দাশ প্রমুখ।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, খুলনার দাকোপ উপজেলার পশুর নদের পারের বাণীশান্তা ইউনিয়নের মানুষের আয়ের একমাত্র উৎস কৃষি। তবে মোংলা বন্দর চ্যানেলের গভীরতা বাড়ানোর জন্য পশুর নদ খনন করে বালু ফেলতে তাঁদের সেই আবাদি জমি হুকুমদখল করা হয়েছে। এতে জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় তাঁরা তাঁদের এ জমিতে বালু ফেলতে দিতে রাজি নন। জমিতে পশুর নদের বালু ফেললে কমপক্ষে ১ হাজার ২০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত হবে বলে দাবি কৃষকদের। তাই বিকল্পের জায়গায় বালু ফেলার প্রস্তাব দিয়েছেন তাঁরা।