কুষ্টিয়ায় সেই মেয়েশিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, বিদ্যালয়ের দপ্তরি গ্রেপ্তার
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার একটি বিদ্যালয় থেকে অচেতন অবস্থায় এক শিশুশিক্ষার্থীকে উদ্ধারের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে মিরপুর থানায় মামলাটি করেছেন মেয়েশিশুটির মা। মামলায় ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরিকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আজ শনিবার সকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, মামলার একমাত্র আসামি হামিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ সকালে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরে তাঁকে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
এদিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি থাকা শিশুটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা হোসেন ইমাম প্রথম আলোকে বলেন, মেয়েটির শারীরিক পরীক্ষার জন্য যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে তা পজিটিভ পাওয়া গেছে।
মিরপুর উপজেলার একটি বিদ্যালয় থেকে গত বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে অচেতন অবস্থায় ওই মেয়েশিশুকে উদ্ধার করা হয়। সে ওই বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। শিশুটিকে রাতেই প্রথমে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, শিশুটি ধর্ষণের শিকার হতে পারে।
শিশুটির পরিবার, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ওই বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠানে অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও ছিল। বেলা তিনটার দিকে অনুষ্ঠান শেষে সবাই বাড়ি ফিরে গেলেও ওই শিশু বাড়ি ফিরছিল না। পরে তার খোঁজে নামেন পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে শিশুটির পরিবারের কয়েকজন সদস্য বিদ্যালয়ে গিয়ে বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ দেখতে বিদ্যালয়ের দপ্তরিকে অনুরোধ করেন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে গাইনি ওয়ার্ডের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুটির এক মামা প্রথম আলোকে বলেন, ‘দপ্তরিকে শ্রেণিকক্ষগুলোর তালা খুলে দেখার কথা বললে তিনি (দপ্তরি) কোনো কর্ণপাত করেননি। বরং উদ্ধত আচরণ করেন। একপর্যায়ে রাত আটটার দিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করে শ্রেণিকক্ষগুলোয় তল্লাশি চালানো হয়। নিচতলার তালা খুলে দোতলায় গিয়ে মেয়েটিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। আরেক তলায় গিয়ে মেয়েটির স্যান্ডেল পাওয়া যায়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে মেয়েটিকে স্থানান্তর করেন।’
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের চিকিৎসা কর্মকর্তা সুস্মিতা বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেয়েটির শরীরের কয়েক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। পুরোটা নিশ্চিত হতে কিছু নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। মেয়েটি তেমন কথা বলছে না। ট্রমার মধ্যে আছে। বেশ দুর্বল। হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরি ও নৈশপ্রহরীকে মামলা করার আগেই থানা হেফাজতে নিয়েছিল পুলিশ। মামলা করার পর একমাত্র আসামি দপ্তরিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। আর নৈশপ্রহরীকে তাঁর পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।