পুলিশ ক্যাম্পের জন্য ভবন ভাড়া দেওয়ায় মালিককে ডাকাতের গুলি

গুলিপ্রতীকী ছবি

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের জন্য ভবন ভাড়া দেওয়ায় ভবনমালিককে গুলি করেছে ডাকাতেরা। এ সময় মালিকের আত্মীয়কে মারধর করা হয়। আজ শুক্রবার বিকেলে গজারিয়া উপজেলার জামালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহত ব্যক্তিরা হলেন গজারিয়ার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের কাইয়ুম দেওয়ান (৪২) ও তাঁর আত্মীয় শরীফ প্রধান (৪১)। তাঁদের অভিযোগ, নৌ-ডাকাত নয়ন ও পিয়াসের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়।

স্বজন ও স্থানীয় লোকজন জানান, শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে আসরের নামাজ শেষে জামালপুর গ্রামের একটি মসজিদ থেকে বের হন কাইয়ুম দেওয়ান, তাঁর ভাই হালিম দেওয়ান, মাইনউদ্দিন দেওয়ান ও তাঁদের আত্মীয় শরীফ প্রধানসহ কয়েকজন। সে সময় নয়ন, পিয়াস, শাহাদাত, রিয়াজ, নিরব, মাহমুদ আলীসহ ৩০-৩৫ জন তাঁদের পথ আটকায়। একপর্যায়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। তাঁদের লাঠিপেটা ও গুলি করতে থাকে। এতে কাইয়ুম ও শরীফ আহত হন। ডাকাত দল চলে গেলে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।

গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কামরুন্নাহার প্রথম আলোকে বলেন, বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে আহত অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে একজনকে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কাইয়ুম নামে একজনের দুই পা ও এক হাতের কনুইয়ে ক্ষতচিহ্ন ছিল। এগুলো গুলির চিহ্ন কি না, সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিতভাবে বোঝা যাচ্ছিল না। পরে রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়।

স্থানীয় সূত্র জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের মেঘনা নদী ও শাখা নদীতে ডাকাতি, অবৈধ বালু লুট, নৌযানে চাঁদাবাজি করে আসছে নয়ন–পিয়াস বাহিনীর ডাকাত দল। অবৈধ এসব কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব ধরে রাখতে গত দেড় বছরে গুয়াগাছিয়ার মেঘনা নদীতে কয়েক দফা গোলাগুলি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২২ আগস্ট জামালপুরে অস্থায়ী একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। ২৫ আগস্ট ওই ক্যাম্পে হামলা চালান নয়ন-পিয়াসেরা। এর পর থেকে জেলা পুলিশ, গজারিয়া থানার পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অভিযানে এলাকাছাড়া হয় ডাকাত দলটি।

স্থানীয় লোকজন জানান, সম্প্রতি ওই ডাকাতেরা এলাকায় ফিরে আসায় আবারও স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কের মধ্যে আছেন।

আহত কাইয়ুম দেওয়ানের বড় ভাই হালিম দেওয়ান বলেন, ‘আমরা কেন আমাদের ভবনে পুলিশ ক্যাম্প করতে ভাড়া দিয়েছি, এ জন্য নয়ন-পিয়াসেরা গ্রামে আসার পর থেকে আমাদের মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছিল। তবে সে সময়কার গজারিয়া থানার ওসি ও পুলিশ সুপারের কারণে ডাকাত দল এলাকায় ঢুকতে পারেনি। সম্প্রতি আবার এলাকায় অবস্থান নিয়েছে তারা। ভয়ে আমরা গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছিলাম। কয়েক দিন আগে পুলিশের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছিল। তাঁরা নির্ভয়ে গ্রামে আসতে বলেছিলেন। আজ শুক্রবার বিকেলে বাবার কবর জিয়ারত করতে এসে হামলার শিকার হলাম। আমরা কোনোরকমে দৌড়ে নিরাপদে যেতে পারলেও কাইয়ুমের দুই পায়ের গোড়ালির ওপরে ও বাঁ হাতের কনুইতে গুলি করেছে।’

গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আলী বলেন, ‘গুয়াগাছিয়া বিচ্ছিন্ন একটি জনপদ, নদীবেষ্টিত। আমরা খবর পেয়ে যখন অভিযানে আসতাম, তখন ওই ডাকাত দল পালিয়ে যেত। এরপরও কিছুদিন আগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজকের হামলার পর থেকে অভিযান শুরু হয়েছে।’