সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ ওই আবাসিক এলাকা নিয়ে নতুন পরিকল্পনা নেবে জানিয়ে প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা ছড়া-খালে স্লুইসগেট স্থাপনের চিন্তা করছি। এ ছাড়া নিচু শাহজালাল উপশহর এলাকার পানি অপসারণের জন্য পাম্প স্থাপন করা হবে। তবে প্রকল্পের বিষয়টি এগোয়নি। আশার করছি পরিকল্পনা করেই সবকিছু মাথায় রেখে আমরা প্রকল্প তৈরি করব। এতে জলাবদ্ধতার নিরসন হবে।’

স্থানীয় লোকজন জানান, গত জুন ও জুলাই মাসে দুই দফা বন্যায় শাহজালাল উপশহরের সড়ক থেকে শুরু করে বাসা-বাড়িসহ পুরো এলাকা পানিতে নিমজ্জিত ছিল। নগরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সময় পানি ছিল শাহজালাল উপশহর আবাসিক এলাকায়। এ সময় অনেকেই নিজের বাসা-বাড়িতে থাকতে পারেননি। পানি নেমে যাওয়ার পর ভবিষ্যতে দুর্ভোগ থেকে বাঁচতে অনেকেই আবাসিক এলাকাটি ছেড়ে যেতে শুরু করেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, শাহজালাল উপশহর এলাকায় সকালের বৃষ্টিতে বিভিন্ন সড়কে পানি জমেছে। আবার কিছু কিছু বাসা-বাড়িতে পানিও ঢুকেছে। তবে বৃষ্টি দীর্ঘসময় স্থায়ী না হওয়ায় পানি নেমে গেছে দুপুরের পরই। এ ছাড়া এলাকার সড়কগুলোতে গত দুই দফা বন্যার পর পানি নেমে গেলেও সড়কগুলোতে তার চিহ্ন রেখে গেছে। সড়কগুলোতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেই সঙ্গে সড়কে জমে রয়েছে বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনা। এসব ময়লা-আবর্জনায় বৃষ্টির পানি জমে থাকতে দেখা গেছে।

গতকাল দুপুরের দিকে শাহজালাল উপশহর এলাকা থেকে বাসার মালামাল নিয়ে যেতে দেখা যায় একটি পরিবারকে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মিনহাজ তালুকদার বলেন, ‘দুই বছর আগে নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার জন্য এ এলাকায় উঠেছিলাম। আগে বৃষ্টিতে সড়কে অল্প জলাবদ্ধতার তৈরি হলেও এবার দুই দফা বন্যায় ঘরের অনেক মালামাল ক্ষতি হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এমন অবস্থায় অন্যত্র স্থানান্তর হওয়া ছাড়া উপায় দেখছিলাম না।’ তিনি বলেন, যে ভবনে তিনি ছিলেন, ওই ভবনের পাঁচটি পরিবারের মধ্যে তিনটি পরিবারই বাসা ছেড়ে নগরের অন্যত্র উঠেছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমান বলেন, সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বন্যার ফলে ভেসে আসা ময়লা-আবর্জনা নালাগুলো থেকে পরিষ্কার করে পানিপ্রবাহ ঠিক করার কাজ করছেন। জলাবদ্ধতা নিরসনে শাহজালাল উপশহর এলাকায়ও একজন সুপারভাইজারের তত্ত্বাবধানে ১০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন