পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার দাবিতে রাঙামাটিতে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ
পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার দাবিতে রাঙামাটি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের বেশ কিছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন। আজ রোববার বেলা তিনটায় শহরের তবলছড়ি-আসামবস্তি সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। আধা ঘণ্টার মতো এই কর্মসূচি চলার সময় সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়।
বিক্ষোভে নবম ও দশম শ্রেণির অর্ধশত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা অংশ নেন। এ সময় বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন অভিভাবকেরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের অন্তত দুজন শিক্ষক তাদের ইচ্ছাকৃতভাবে ফেল করিয়ে দিয়েছেন।
নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ফারজানা আক্তার রেশমী বলেন, ‘আমার বোন নবম শ্রেণিতে পড়ে। সে পাঁচ বিষয়ে ফেল করেছে। আমিসহ কয়েজন অভিভাবক খাতা দেখার জন্য বিদ্যালয়ে গেলে মো. রাজ্জাক নামের এক শিক্ষক দুর্ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে আমাদের বের হয়ে যেতে বলেন তিনি। মুঠোফোনে ভিডিও করতে গেলে আরেক সহকারী শিক্ষক চুমকি চাকমা আমার মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে মেঝেতে ফেলে দেন। এ ঘটনায় আমি কোতোয়ালি থানায় জিডি করেছি।’
অন্যদিকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, সড়কে বিক্ষোভ করা শিক্ষার্থীরা তিন থেকে পাঁচ বিষয়ে ফেল করেছে। নতুন শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ ছিল না তাদের।
শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বার্ষিক পরীক্ষায় ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীরা নতুন শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তিন বিষয়ে ফেল করেও দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে। আর টেস্ট পরীক্ষায় যারা দুই বিষয়ে ফেল করেছে, তাদেরও এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি মিলেছে। তিন থেকে পাঁচ বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীরাও নতুন শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হতে চায়।
অভিভাবকদের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক মো. রাজ্জাক বলেন, অভিভাবকের অভিযোগ পুরোপুরি বানোয়াট। শিক্ষকেরা বরং তাঁদের দ্বারা আক্রমণের শিকার হয়েছেন। ফেল করা শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক পরীক্ষায় খারাপ করেছে। এ জন্য তাদের প্রমোশন দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে রাঙামাটি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. কবির আলমকে বিদ্যালয়ে গিয়ে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ধরেননি।
তবে বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মো. তাজুল ইসলাম এ নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে মোট ১ হাজার ১৬০ জন শিক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৮২ জন। ৭ জানুয়ারি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।