রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা। আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় ও বেলা সাড়ে ১১টায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
ছাত্রশিবিরের সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য মো. শওকত আলীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও ভর্তি পরীক্ষার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়। অন্যদিকে ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলনে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে দায়িত্ব পালন, উপাচার্যের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে ‘গুপ্ত’ সংগঠনের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগ করা হয়েছে। উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার দুজনই তাঁদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ
আজ সকাল সাড়ে ১০টায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে উপাচার্য মো. শওকত আলীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘শিক্ষার্থী পরিষদের’ প্রার্থীরা। এতে সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আহমেদুল হক, জিএস প্রার্থী মেহেদী হাসান, এজিএস প্রার্থী বায়েজিদ শিকদারসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মেহেদী হাসান বলেন, ১৩ জানুয়ারি কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে ২৬ কর্মকর্তা–কর্মচারী পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের মধ্যে রেজিস্ট্রারসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সাতটি পদ আছে। এই নিয়োগের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু তাঁরা জানতে পেরেছেন, আগের উপাচার্যদের আমলে অনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চতুর্থ গ্রেডে পদোন্নতি পাওয়া আট অতিরিক্ত রেজিস্ট্রারসহ আওয়ামী লীগের আমলে নিয়োগ পাওয়া আওয়ামীপন্থী সংগঠন স্বাধীনতা পরিষদের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত একটি অসৎ চক্রের সদস্যদের নিয়োগ দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, উপাচার্য একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার উপেক্ষা করেছেন। কৌশলগতভাবে সময়ক্ষেপণ করে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ছাত্র সংসদ নির্বাচন এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলনের পরও ছাত্র সংসদ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা (গুচ্ছ, ঢাবি, রাবি ও কৃষিগুচ্ছ) আয়োজনের অর্থ ব্যয় ও বণ্টনের অনিয়ম হয়ে আসছে। শুধু গুচ্ছ পরীক্ষার নামকাওয়াস্তে ক্ষুদ্র একটা অংশ জমা করা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে কোনো অর্থ জমা করা হয় না। সাধারণ শিক্ষক ও কর্মচারীদের বঞ্চিত করে উপাচার্য ও কয়েকজন শিক্ষক এই অর্থ ভাগ করে নেন।
শহীদ আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে ছাত্রশিবিরের নেতারা বলেন, বিগত প্রশাসনের অনিয়মের বিচার নিশ্চিত করা বর্তমান উপাচার্যের দায়িত্ব ছিল। কিন্তু বাজেট আত্মসাৎ ও অনৈতিক নিয়োগ তদন্তে একাধিক কমিটি হলেও দৃশ্যমান কোনো ফল পাওয়া যায়নি। এসব অনিয়ম আড়াল করতেই উপাচার্য একটি বিশেষ মহলের ওপর নির্ভর করছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপাচার্য মো. শওকত আলী প্রথম আলোকে বলেন, ইউজিসি তিন মাস আগে রেজিস্ট্রার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিতে বলেছে। এ জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর তাঁরা আশঙ্কা করলেন, তিনি কাউকে নিয়োগ দেবেন, দুর্নীতি করবেন। এগুলো তাঁদের ভ্রান্ত ধারণা। ভর্তি পরীক্ষার টাকা আত্মসাতের বিষয়ে বলেন, ‘আমরা শুধু পরীক্ষাগুলো কন্ডাক্ট করি। এটার জন্য স্টুডেন্ট অনুযায়ী আমাদের যে টাকা দেয়, সেটা সবার মধ্যে বণ্টন হয়। আর যেটা অতিরিক্ত থাকে, সেটা আলাদা ফান্ডে আমরা জমা রাখি এবং সেটা আছে।’
রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে দায়িত্ব পালনের অভিযোগ
আজ বেলা সাড়ে ১১টায় উপাচার্যের পক্ষে অবস্থান নিয়ে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে দায়িত্ব পালন ও নানা অনিয়মের অভিযোগ করেছেন শাখা ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা। সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি তুহিন রানা বলেন, রেজিস্ট্রার হারুন অর রশিদ অবৈধভাবে দায়িত্ব পালন ও ক্যাম্পাসে অরাজকতা সৃষ্টি করছেন। তিনি (রেজিস্ট্রার) উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উপাচার্যের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এ ছাড়া রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে ‘গুপ্ত’ গোষ্ঠীর সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকের অভিযোগ রয়েছে। ছাত্র সংসদ নির্বাচনে রেজিস্ট্রারের গাফিলতির কারণেই এখনো ভোটার তালিকা সংশোধন হয়নি।
জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক হারুন অর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা কী বলেছে, সেটা তাদের বিষয়। তারা তো তাদের মতো করে বলতে পারে। রেজিস্ট্রার হিসেবে এখানে দায়িত্ব পালন করছি। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে আমি আমার কাজ করছি।’