লিখিত অভিযোগ ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী স্কুলের নির্ধারিত পোশাক না পরে বোরকা পরে স্কুলে আসে। সহকারী শিক্ষক মৌসুমী রায় এ জন্য ওই ছাত্রীকে তাঁর শ্রেণিকক্ষে অন্যান্য সহপাঠীর সামনে শাস্তি দেন। এই শাস্তি প্রদানকে অনৈতিক ও বিধিবহির্ভূত দাবি করে ছাত্রীর অভিভাবক শনিবার প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান গতকাল সোমবার অভিযুক্ত শিক্ষক মৌসুমী রায়কে সাময়িক বরখাস্ত করেন। পাশাপাশি অভিযোগ তদন্তে একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে প্রধান করে গতকাল তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। এর আগে রোববার প্রধান শিক্ষক রোকেয়া খানম জরুরি সভা ডেকে তিন সদস্যের পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। দুটি তদন্ত কমিটিকেই তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

যিনি শাস্তি পাওয়ার, তিনি শাস্তি পেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অহেতুক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন এসব কর্মকাণ্ড থেকে জনগণকে বিরত থাকার অনুরোধ করছে।
স এম মুরাদ আলি, পুলিশ সুপার, হবিগঞ্জ

জেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে আজ মঙ্গলবার আলেমদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠক করেন জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান। এ সময় তিনি আলেমদের এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে ধৈর্যশীল ও সহনশীল হওয়ার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। এ ছাড়া আজ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নিয়ে আরেকটি সভা করেছেন জেলা প্রশাসক। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, এ বিষয়ে তিনি শিক্ষকদের সতর্ক করে দেন।

জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান আজ প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলি ও এনএসআইয়ের উপপরিচালক আজমুল হোসেন বিদ্যালয়টি আজ পরিদর্শন করেছেন। আসলে কী ঘটেছিল, তা জানতে তাঁরা বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তারপরও একশ্রেণির মানুষ ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করছেন।

পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলি বলেন, যিনি শাস্তি পাওয়ার, তিনি শাস্তি পেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অহেতুক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন এসব কর্মকাণ্ড থেকে জনগণকে বিরত থাকার অনুরোধ করছে।

এর আগে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার দাউল বারবাকপুর উচ্চবিদ্যালয়ে স্কুলড্রেস না পরায় কয়েকজন ছাত্রীকে পেটানোর অভিযোগ পাওয়া যায়। তখন একটি মহল প্রচার করে, হিজাব পরায় ওই ছাত্রীদের পিটিয়েছেন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক আমোদিনী পাল। সেই ঘটনার জের ধরে পরের দিন ৭ এপ্রিল স্থানীয় অনেক মানুষ ওই স্কুলে গিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং স্কুলের আসবাব ভাঙচুর করেন। ঘটনাটি তদন্তে ৭ এপ্রিল প্রশাসনের তরফ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

১১ এপ্রিল রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চার পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত কমিটি। তদন্তে হিজাব পরায় শিক্ষার্থীদের মারধরের সত্যতা পায়নি কমিটি। স্কুলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য গুজব ছড়িয়ে শিক্ষক আমোদিনী পালের বিরুদ্ধে স্থানীয় লোকজনকে উসকে দেওয়ার সত্যতা পান তাঁরা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন