খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর ইজতেমা মাঠে পাঁচ দিনের জোড় (ইজতেমার প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ) পালনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ইজতেমার মাঠ। সেই থেকে দুই পক্ষ আলাদাভাবে ইজতেমা পালন করছে। প্রথম পক্ষের ইজতেমা পালন শেষে মাঠ হস্তান্তর করা হয় দ্বিতীয় পক্ষের কাছে। পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় পক্ষ ইজতেমা পালন শেষে চলে গেলে প্রথম পক্ষ পুনরায় মাঠের দায়িত্ব বুঝে নেয়। মাঠ নিজেদের দখলে রাখে।

এবারের ইজতেমাসহ বিগত ২০১৯ ও ২০২০ সালে প্রথম পক্ষ হিসেবে ইজতেমা পালন করেন মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীরা। সে হিসেবে বিগত বছরগুলোতে মাঠ তাঁদের দখলে থাকে। কিন্তু আগামী বছর (২০২৪) প্রথম পর্বে ইজতেমা করতে চান মাওলানা সাদ অনুসারীরা। তাই মাঠটি কারও কাছে হস্তান্তর না করে নিজেদের দখলে রাখতে চান।

সাদ অনুসারীদের শীর্ষ মুরব্বি মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০১৮–এর পর থেকে মাঠ তাঁদের (জুবায়েরপন্থীদের) দখলে। তাঁরা আগে (প্রথম পর্ব) ইজতেমা পালন করছেন। মাঠ নিজেদের দখলে রাখছেন, কিন্তু এখন আর তা হবে না। আগামী বছর আমরা প্রথম পর্বে ইজতেমা পালন করব। তাই মাঠ কারও কাছে হস্তান্তর করা হবে না। আমরাই মাঠের সবকিছু দেখভাল করব। এ নিয়ে আমরা ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছি।’

মাঠের বিষয়ে আগের অবস্থানেই অনড় মাওলানা জুবায়েরপন্থীরা। তাঁরা পূর্বসিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামীকাল জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে মাঠ বুঝে নিতে চান। জুবায়ের অনুসারীদের শীর্ষ মুরব্বি খন্দকার মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘জেলা প্রশাসন থেকে আমাদের মাঠ বুঝিয়ে দেওয়ার কথা, তাই আমরা তাদের ওপরই ভরসা করছি। আশা করছি, আগের যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা–ই ঠিক থাকবে। আমরা কোনো হট্টগোলে যাব না।’

সাদ অনুসারীরা যদি মাঠ না ছাড়েন বা জেলা প্রশাসন থেকে মাঠ বুঝিয়ে না দেয়, তবে কী হবে—এমন প্রশ্নে মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাদের শীর্ষ মুরব্বিরা আছেন। সবাই মিলে যে সিদ্ধান্ত নেন, তাই হবে।’

এ বিষয়ে জানতে আজ মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান বলেন, ‘আগামীকাল সাদপন্থীদের কাছ থেকে আমাদের মাঠ বুঝে নেওয়ার কথা। মাঠ বুঝে নেওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আজ বিকেল পাঁচটায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো মাঠেই এখনো শামিয়ানা টাঙানো। ছড়িয়ে–ছিটিয়ে পড়ে আছে হাজারো পলিথিন, ময়লা–আবর্জনা। এর মধ্যে মাঠের মূল মঞ্চের সামনে এখনো অবস্থান করছে তাবলিগ জামাতের কয়েকটি দল। আর বিদেশি কামরায় এখনো আছেন বিভিন্ন দেশ থেকে আসা কিছু মুসল্লি। ২ নম্বর ফটকে এখনো বাঁশ হাতে পাহারায় আছেন কয়েকজন।