এমন পরিস্থিতির মধ্যে তিন-চার মাস ধরে নিয়মিত কাজ মিলছে না আবদুল গফুরের। তিনি বলেন, সপ্তাহে একদিন কাজ জুটলে চার দিন বসে থাকতে হয়। কাজ না থাকায় ৫০০ টাকার মজুরি ৪০০ টাকায় নেমে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পঞ্চাশের দশক থেকে নামাজগড়ে প্রতিদিন ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত কাজ করানোর জন্য শ্রমিক বেচাকেনা হয়ে আসছে। বহু বছর পর এবার শ্রম বিক্রির হাটে শ্রমিকদের হাহাকার দেখা যাচ্ছে।

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ধনারপাড়ার সাইফুল ইসলাম ৩৫ বছর ধরে নামাজগড় শ্রমের হাটে আসছেন। রাজমিস্ত্রির সহকারীর কাজ করে সাত সদস্যের সংসার চলে তাঁর। বগুড়া শহরতলীর ঝোপগাড়ি এলাকায় একখণ্ড জমিতে বাড়িও করেছেন। সেখানে পরিবার নিয়ে থাকেন তিনি। শ্রম বিক্রির হাটে এসে ক্রেতার আশায় বসে থেকেও কাজ জোটেনি।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের কঞ্চিবাড়ি গ্রামের মোহাম্মদ রুবেল শেখ শৈশবে বাবার হাত ধরে ধান কাটার কাজ করতে প্রথমে বগুড়ায় আসেন। ষাটোর্ধ্ব রুবেল শেখ রাজমিস্ত্রির সহকারী এবং রঙের কাজও করেন। স্ত্রী-ছেলেমেয়ে থাকেন বাড়িতে। সারা বছরই এই শ্রমিকের হাটে আসা–যাওয়া তাঁর। এবার কাজের সংকটে রুবেল শেখের কণ্ঠেও হাহাকার। তিনি বলছিলেন, সারা দিন কাজের আশায় বসে থাকেন। রড-সিমেন্টের দাম বাড়ার পর রাজমিস্ত্রির কাজ কমেছে।

কাহালু উপজেলার কাজিপাড়ার আবদুল কুদ্দুস (৫০)। তিনি বলেন, ১৪ বছর বয়স থেকে এ হাটে শ্রম বিক্রির জন্য আসছেন। ৩০ টাকা দিন মজুরি দিয়ে সংসার চালাতে কষ্ট হয়নি। কিন্তু এখন ৫০০ টাকা দিন মজুরি দিয়েও সংসার চলছে না। মাসে ১০ দিনও কাজ মিলছে না। প্রতিদিন শহরে যাতায়াত খরচ ১০০ টাকা। সকালে বাড়ি থেকে বের হলে স্ত্রী, তিন ছেলেমেয়ে অপেক্ষায় থাকেন; সন্ধ্যায় বাজারের ব্যাগে চাল, ডাল, তরকারি নিয়ে বাড়ি ফিরবেন এ আশায়। কিন্তু কাজ না জুটলে খালি হাতে ফিরতে হয়। তখন স্ত্রী-সন্তানদের মুখ মলিন থাকে। তাদের অনাহারে কাটাতে হয়।