সংঘর্ষের সময় কাঁদানে গ্যাসের ধোঁয়ায় অসুস্থ চা বিক্রেতার মৃত্যু

লাশ
প্রতীকী ছবি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বিএনপি-জামায়াতের অবরোধের প্রথম দিন গতকাল মঙ্গলবার সকালে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সংঘর্ষের সময় কাঁদানে গ্যাসের ধোঁয়ায় অসুস্থ চা বিক্রেতা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

তাঁর নাম আশিক মিয়া (৫০)। গতকাল রাত ১০টার দিকে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বাড়ি পৌর শহরের গাছতলাঘাট এলাকায়।

বিএনপির পক্ষ থেকে আশিককে দলীয় কর্মী দাবি করা হলেও পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তিনি কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, অবরোধের প্রথম দিনে গতকাল সকাল সাতটা থেকে বিএনপির একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের গাছতলাঘাট এলাকা দিয়ে বের হয়ে বাসস্ট্যান্ডের দিকে যায়। একটি অংশ গাছতলাঘাট এলাকায় পিকেটিং করে। এ সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে কয়েকটি কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।

একটি শেল আশিকের দোকানের কাছে পড়ে। ধোঁয়ায় আশিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং বমি করতে থাকেন। তাঁকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। গতকাল রাত ১০টার দিকে আশিক মারা যান।

আশিকের খালা রোকেয়া বেগম ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি বলেন, ‘শেলটি আশিকের ঘরের কাছে পড়ার পর ধোঁয়ায় ভরে যায়। তখন আশিক আর চোখে দেখছিল না, চিৎকার করছিল। আমরা যে বাঁচাতে এগিয়ে যাব, সেটাও সম্ভব ছিল না। চারপাশে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে সবার সমস্যা হচ্ছিল।’ তিনি বলেন, আশিক আগে থেকে অসুস্থ ছিলেন। তাঁর হৃদ্‌রোগ ছিল।

ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলামের দাবি, আশিক পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য ছিলেন। তবে আশিকের পরিবার বলছে, তিনি রাজনীতি করতেন না।

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম বলেন, অবরোধের প্রথম দিনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সংঘর্ষ থামাতে গাছতলাঘাট এলাকায় কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করা হয়, এটা সত্য। তবে এতে কারও মৃত্যু হওয়ার কথা নয়। কারও মৃত্যুর তথ্যও তাঁদের জানা নেই।