ভৈরব বন্ধুসভার ২০০তম পাঠচক্রে ‘বাংলাদেশের নায়কেরা’ পাঠ
এক দশকের পথচলা, ২০০তম পাঠচক্র—এ এক নিঃশব্দ অথচ দৃঢ় সাংস্কৃতিক আন্দোলনের গল্প। প্রথম আলোর পাঠক সংগঠন ভৈরব বন্ধুসভার মুদ্রিত বই পড়ার ধারাবাহিক আয়োজন পাঠচক্রের অনন্য মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলার ২০০তম আসর বসে শনিবার বিকেলে শহরের এমবিশন পাবলিক স্কুল মাঠে। এটি চলতি বছর স্কুলপর্যায়ে শুরু হওয়া তৃতীয় পাঠচক্র। বিশেষ এই পাঠচক্রে পঠিত হয় প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান সম্পাদিত গ্রন্থ ‘বাংলাদেশের নায়কেরা’।
বাংলাদেশের ১৯ জন কীর্তিমান মানুষকে নিয়ে রচিত এই বই। তাঁদের কেউ সাহিত্যিক বা শিল্পী, কেউ উদ্যোক্তা বা বিজ্ঞানী, কেউ খেলোয়াড় বা পরিবেশকর্মী। তাঁরা জাতি হিসেবে আমাদের দিয়েছেন সম্মান, গৌরব আর আত্মমর্যাদা। তাঁরা নিজেরাই তাঁদের জীবনের গল্প বলেছেন এ বইয়ে।
শিক্ষক–শিক্ষার্থীসহ পাঠচক্রে অংশ নেন অন্তত ৭০ জন। তাঁরা বইটিতে স্থান পাওয়া সফল ব্যক্তিদের পথ পেরোনোর গল্পগুলো পড়ে শোনান এবং নিজেদের ভাবনা ও উপলব্ধি তুলে ধরেন। আলোচনায় উঠে আসে, গ্রন্থের নায়কদের জীবনকথা শুধু জানার জন্য নয়, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মানবিক, সাহসী ও দায়িত্বশীল করে গড়ে তুলতেও জরুরি।
আলোচনায় আরও উঠে আসে, কীভাবে কিছু মানুষ তাঁদের কর্ম, চিন্তা ও সংগ্রামের মাধ্যমে আমাদের জাতিসত্তাকে সম্মানিত করেছেন। কেউ ইতিহাসের কঠিন পথ পেরোতে আমাদের সাহায্য করেছেন, কেউ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের সুনাম, আবার কেউ গড়ে তুলেছেন আমাদের মনন ও মূল্যবোধ। তাঁরা কেউই সহজ পথে হাঁটেননি। বাধা, সংকট আর প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁরা ছিলেন একাগ্র, দৃঢ় ও প্রত্যয়ী। সংগ্রামী জীবনের গল্পগুলো পাঠকের মনে সৃষ্টি করে গভীর অনুপ্রেরণা।
মুখ্য আলোচক ছিলেন ভৈরব বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি প্রিয়াংকা, বর্তমান সভাপতি জান্নাতুল মিশু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাফিস রহমান এবং পাঠচক্র ও পাঠাগার সম্পাদক মহিমা মেধা। লেখক পরিচিতি তুলে ধরেন সাবেক সভাপতি নাহিদ হোসাইন। পরে মতিউর রহমানের জীবন–কর্ম নিয়ে টিভির পর্দায় একটি প্রতিবেদন দেখানো হয়।
এক দশকে হওয়া ২০০টি পাঠের আসরে প্রতিটিতে উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দেন প্রথম আলোর ভৈরবের নিজস্ব প্রতিবেদক সুমন মোল্লা। পাঠচক্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়ে বিশেষ সহযোগিতা দিয়ে আসায় এই বিশেষ দিনে শুরুতেই তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
সূচনা আলোচনায় সাধারণ সম্পাদক আনাস খান বলেন, ভৈরব বন্ধুসভার এই ২০০তম পাঠচক্র শুধু একটি সংখ্যার উদ্যাপন নয়; এটি মুদ্রিত বইয়ের প্রতি ভালোবাসা, পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার এক দশকের সাধনা। আজ চারপাশে ভৈরব বন্ধুসভার বিপুল মর্যাদা অর্জনে মুখ্য ভূমিকা পাঠচক্রের।
বইয়ের আলোচনা নিয়ে স্কুলে আসায় এমবিশন পাবলিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিশ্বনাথ গুপ্ত ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবৃত্তিশিল্পী নূর-ই-লাইলা বন্ধুসভাকে ধন্যবাদ জানান। পরে মনোযোগী শ্রোতা নির্বাচনে আলোচনা হওয়া বিষয়ের ওপর লিখিত কুইজ প্রতিযোগিতা হয়। দশজন কুইজ বিজয়ীকে দেওয়া হয় কিশোর ম্যাগাজিন কিশোর আলো ও বিজ্ঞানচিন্তা।
স্কুলটির নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, ‘গ্রন্থের নায়কদের অনেকের নাম আগ থেকে জানতাম। কিন্তু তাঁদের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে স্পষ্ট ছিলাম না। আজ সেই শূন্যতা পূরণ হলো।’