শিশু হযরতের বাড়িতে ছুটে গেলেন ইউএনও, বাবাকে দিলেন হুইলচেয়ার ও অর্থ সহায়তা

শিশু হযরত আলীর মায়ের হাতে একটি হুইলচেয়ার ও ১০ হাজার টাকা তুলে দেন ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদ। বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কমলাপুর গ্রামে।ছবি: প্রথম আলো

তৃতীয় শ্রেণিপড়ুয়া হযরত আলীর অসুস্থ বাবা ইসরাইল হোসেন মণ্ডলের ওষুধের টাকা জোগাড় করতে ভ্যান চালাচ্ছে। প্রথম আলোর অনলাইনে প্রকাশিত এমন খবর দেখে আজ বৃহস্পতিবার ঈদের দিন শিশুটির বাড়ি ছুটে যান ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ। তিনি শিশুটির পঙ্গু বাবার ব্যবহারের জন্য একটি হুইলচেয়ার ও ১০ হাজার টাকা শিশুটির মায়ের হাতে তুলে দেন। এ সময় শিশু হযরত আলী সেখানে উপস্থিত ছিল।

পরবর্তী সময়ে কিছু শুকনা খাবার, জরাজীর্ণ ঘরটি মেরামত ও ইসরাইল হোসেনের প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থার করে দেওয়ার আশ্বাস দেন ইউএনও। সেই সঙ্গে পরিবারটিকে সার্বক্ষণিক তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য বলেছেন।

অসুস্থ বাবার ওষুধের টাকা জোগাড় করতে ভ্যান চালায় শিশু হযরত আলী। সম্প্রতি ঝিনাইদহের কমলাপুর এলাকায়।
ছবি: প্রথম আলো

শিশু হযরত আলী ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কমলাপুর গ্রামের ইসরাইল হোসেনের ছেলে। ৯ বছরের ছেলেটি প্রতিদিন মাদ্রাসা থেকে ফিরে ভ্যান নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ ও সদর উপজেলার গান্না বাজার সড়কে যাত্রী পরিবহনের কাজ করে। এ কাজ করে যা আয় হয়, তা দিয়ে বাবার ওষুধ আর সংসারের খরচ চলে।
শিশু হযরত আলীর জীবনসংগ্রামের গল্প আজ ঈদের দিন সকালে ‘বাবার ওষুধের টাকা জোগাড় করতে শিশুটি ভ্যানগাড়ি চালায়’ শিরোনামে প্রথম আলোর অনলাইনে প্রকাশিত হয়। এটি নজরে পড়ে কালীগঞ্জের ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদের। তিনি দ্রুত ছুটে যান শিশুটির বাড়িতে। সঙ্গে নিয়ে যান একটি হুইলচেয়ার ও ১০ হাজার টাকা। এই টাকা তিনি শিশুটির মা ফুলমতি বেগমের হাতে তুলে দেন। কথা বলেন শিশুটির পঙ্গু বাবা ইসরাইল হোসেনের সঙ্গে।

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, প্রথম আলোর খবরটি পড়ে তিনি শিশুটির বাড়িতে এসেছেন। তাঁর সাধ্যমতো সহযোগিতা করেছেন। পরবর্তী সময়ে তার বাবার একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেই সঙ্গে জরাজীর্ণ ঘরটি সংস্কারের জন্যও উদ্যোগ নেবেন।

শিশু হযরত আলীর মা ফুলমতি বেগম বলেন, এ সহযোগিতা পেয়ে তিনি খুবই খুশি। সবচেয়ে বড় কথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁদের খোঁজ নিয়েছেন। এতে তাঁর খুব ভালো লাগছে। যেকোনো উপায়ে তাঁদের একটি স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা হলে ছেলেটিতে পড়ালেখা করাতে পারতেন। তখন ছেলেটাকে আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় পাঠাতে হতো না।