বিএনপি প্রশাসনকে দলদাসে পরিণত করছে: আখতার হোসেন

ঝিনাইদহে পদযাত্রা শেষে অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। রোববার বিকেলে ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরেছবি: প্রথম আলো

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেছেন, আগামীতে নির্বাচনকে কন্ট্রোল করতে বিএনপি নির্বাচন কমিশনে তাদের দলীয় কর্মী বসিয়েছে। নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ লোকদের জায়গা, দলীয় লোক দিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। তারা আগামীতে কীভাবে ক্ষমতায় থাকবে, এখনই সেই পথ তৈরি করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি থেকে শুরু করে প্রতিটি জায়গায় বিএনপি তাদের দলীয় লোক বসাচ্ছে। প্রশাসনকে দলদাসে পরিণত করছে।

রোববার বিকেলে ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে এনসিপি আয়োজিত জুলাই পদযাত্রা শেষে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আখতার হোসেন এ কথা বলেন।

বিএনপি আওয়ামী লীগের পথ ধরেছে উল্লেখ করে সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, ‘যে দেশে গণতন্ত্র থাকবে, হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান একসঙ্গে বসবাস করবে, ন্যায়বিচার থাকবে, সবার সমান অধিকার থাকবে—আমরা এমন দেশ চেয়েছিলাম। কিন্তু বিএনপি জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা নষ্ট করে দিচ্ছে।’ তিনি জানান, এনসিপির প্রধান কাজই সংস্কার বাস্তবায়ন করা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা।

বিএনপি কোনো জায়গায় ছাত্রদল, যুবদলের চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নারীশক্তির মুখ্য সংগঠক মাহমুদা মিতু। তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুর আগে বলেছিলেন, দেশে যদি কখনো জনগণের সরকার আসে, তাহলে এই সংবিধান ছুড়ে ফেলে দেবে। কিন্তু তারেক রহমান নিজের মায়ের কথা রাখেননি। যে সন্তান নিজের মায়ের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে না, সেই সন্তান কী করে দেশ চালাবে?’ তিনি আরও বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের নেতৃত্বে চলতে না চাইলে আপনার সন্তানকে রাজনীতিতে পাঠাতে হবে। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষায় গঠিত এনসিপির সাথে থাকতে হবে।’

পথসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুল হক, ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান, ঝিনাইদহ জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী আরেফিন কায়সার ও নাসির আল সামী।

এর আগে ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার চত্বর থেকে একটি পদযাত্রা নিয়ে পায়রা চত্বরে সভাস্থলে যোগ দেন নেতারা। পথসভায় শহীদ রাকিবের মা–বাবা ও শহীদ সাব্বিরের বাবা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে জুলাই স্মৃতিতে শিশুদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে এনসিপি।