নিরাপত্তা, অংশগ্রহণ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে: ইইউর প্রধান নির্বাচন পর্যবেক্ষক

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভারস আইজাবস। আজ শুক্রবার বিকেলে সিলেট প্রেসক্লাবেছবি: প্রথম আলো

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভারস আইজাবস বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরাপত্তা, অংশগ্রহণ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড—এই তিনটি প্রধান বিষয় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

আজ শুক্রবার বিকেলে সিলেট প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ইভারস আইজাবস এ কথা জানান। সন্ধ্যায় জেলা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে আরেকটি মতবিনিময় সভায় তিনি বক্তব্য দেন।

সিলেট প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ইভারস আইজাবস ইইউর নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এ সময় তিনি নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা জানতে চান। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তিনটি বিষয় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাঁরা দেখবেন নাগরিকেরা কতটা নির্ভয়ে ও নিরাপদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছেন, নির্বাচনে নারী ও সংখ্যালঘু গোষ্ঠীসহ বাংলাদেশের সব নাগরিকের অন্তর্ভুক্তি এবং প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা কতটা নিশ্চিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার করার জন্য এসেছেন জানিয়ে ইভারস আইজাবস বলেন, ‘আমাদের এই নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ মিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং আমরা এই নির্বাচনকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছি। আমাদের মিশনের একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি রয়েছে, যেখানে আমাদের কাজ হলো কেবল পর্যবেক্ষণ করা, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়া। এই কারণে যেহেতু নির্বাচন খুব কাছে, আমি কোনো দলের নিয়ম লঙ্ঘন বা অন্য কোনো বিষয়ে মন্তব্য করব না। নির্বাচনের পরপরই আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি আমাদের প্রাথমিক বিবৃতি দেব এবং কয়েক মাস পরে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করব। এই মিশন আনুষ্ঠানিকভাবে এক মাস আগে শুরু হয়েছে এবং আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক দল ইতিমধ্যে ঢাকা ও অন্যান্য অঞ্চলে নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করছে।’

ইইউর নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষকেরা স্থানীয় নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, যার মধ্যে প্রধান অংশীদার হিসেবে নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্তৃপক্ষ, প্রার্থী, দেশীয় পর্যবেক্ষক ও বিভিন্ন এনজিও অন্তর্ভুক্ত। আগামীকাল ইউরোপ থেকে আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দেবেন, যাঁরা নির্বাচনের শেষ দিনগুলোতে প্রচার ও ভোট গণনা পর্যবেক্ষণ করবেন। এটি কেবল ইউরোপীয় ইউনিয়নের মিশন নয়, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে ও কানাডার মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী দেশও এতে অংশগ্রহণ করছে। সেসব দেশের পর্যবেক্ষকেরা দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকা, শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে থাকবেন।’

নির্বাচন আয়োজনে বাইরের হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে ইভারস আইজাবস বলেন, ‘আমাদের দলে অনেক বিশেষজ্ঞ রয়েছেন, যেমন আইনি বিশেষজ্ঞ, নির্বাচন বিশ্লেষক ও মিডিয়া বিশ্লেষক। যাঁরা প্রথাগত ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে আমরা কোনোভাবেই এই প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছি না বা কাউকে কোনো পরামর্শ দিচ্ছি না। আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক রক্ষা করতে চাই। আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক প্রসারিত করতে এবং গ্রিন এনার্জি ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। আমাদের কাছে এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’