শত শত বানরের চিৎকার-চেঁচামেচিতে ঘুম ভাঙে যে এলাকার মানুষের

শরীয়তপুরের তিনটি গ্রামে কয়েক হাজার বানরের বসবাস। খাবার না পেয়ে বানরের দল লোকালয়ে হানা দেয়। নড়িয়া উপজেলার কার্তিকপুর পালপাড়া এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার কার্তিকপুর পালপাড়া গ্রামের বাসিন্দাদের সকালের ঘুম ভাঙে বানরের চিৎকারে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বানরের দল গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে খাবারের সন্ধানে হানা দেয়। ঘরের টিনের চালে, বাড়ির উঠানে লাফালাফি, দৌড়াদৌড়ি ও চিৎকার-চেঁচামেচি করতে থাকে।

শুধু পালপাড়াই নয়, এমন অবস্থা পাশের মুধুপুর ও পাচালিয়া গ্রামেও। শরীয়তপুরের নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার তিনটি গ্রামে কয়েক হাজার বানরের বিচরণ। ওই সব বানর গ্রামের বিভিন্ন বাগানে থাকে। খাবারের সন্ধানে তারা দলবদ্ধ হয়ে গ্রামের মানুষের বাড়িতে চলে আসে। গ্রামের অনেকে বানরগুলোকে নিয়মিত খাবার দেন। গ্রামগুলোয় এখন বানর আর মানুষের সহাবস্থান তৈরি হয়েছে।

নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিক ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়ন দুটিতে কার্তিকপুর পালপাড়া, মধুপুর ও পাচালিয়া গ্রাম অবস্থিত। অন্তত ৫০ বছর ধরে গ্রাম তিনটিতে বানরের বসবাস। বংশ বিস্তার করতে করতে এখন চার থেকে পাঁচ হাজার বানর আছে গ্রাম তিনটিতে।

ওই বানরগুলো দিনে গ্রামের রাস্তায় ও লোকালয়ে মানুষের বাড়িতে গিয়ে খাবারের সন্ধান করে। গ্রামের অনেক বাসিন্দা স্বেচ্ছায় তাদের খাবার দেন। আবার অনেক বাসিন্দা বানরের প্রতি বিরক্ত হয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, জীববৈচিত্র্য ও বন্য প্রাণী বাঁচিয়ে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বানর সংরক্ষণ ও বানরের নিয়মিত খাবার দেওয়া হোক।

২৫ বছর আগে কার্তিকপুর পালপাড়া গ্রামে বউ হয়ে আসেন অনিতা রানী পাল। প্রতিদিন যা কিছু রান্না করেন, তার একটি অংশ তিনি বানরের জন্য রেখে দেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বউভাতের অনুষ্ঠানের দিন শ্বশুর শতাধিক বানরকে খাবার খাইয়েছেন। সেদিন তিনি বুঝেছেন, এ বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে বানরের সখ্য আছে। তিনিও প্রতিদিনই কিছু না কিছু খাবার দেন তাদের।

মধুপুর গ্রামের গৃহবধূ পপি পাল প্রথম আলোকে বলেন, কাকডাকা ভোরেই বানরের দল বাড়িতে চলে আসে। সারা দিন বাড়ির উঠানে ঘোরাঘুরি করে, ঘরের চালে লাফালাফি করে। বাড়ির শিশুরা বানরের দলের সঙ্গে খেলাধুলা করে। ১৫ বছর ধরে এ বাড়িতে এসে তিনি এমন চিত্র দেখছেন।

শরীয়তপুর বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা হাবীবুর রহমান বলেন, শরীয়তপুরের কিছু এলাকায় বানরের বিচরণ আছে—এমন তথ্য আছে। কিন্তু কোন এলাকায় কী পরিমাণ বানর আছে, তার কোনো পরিসংখ্যান নেই।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল কাইয়ূম খান বলেন, প্রকৃতি ও মানুষের প্রয়োজনে জীববৈচিত্র্য ও বন্য প্রাণী বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কার্তিকপুর ও তার আশপাশে যে বিপুল পরিমাণ বানরের বিচরণ আছে, সেখানে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্য সরবরাহ করার জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হবে।