বাগেরহাটে কৃষিজমিতে লবণপানি ঢোকানো বন্ধে কৃষকদের মানববন্ধন

লবণপানি ঢোকানো বন্ধের দাবিতে বাগেরহাটের ডেমা ও মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নের ভুক্তভোগী কৃষকদের মানববন্ধন। শনিবার বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সামনেছবি: প্রথম আলো

বাগেরহাটে জলকপাট (স্লুইসগেট) ও অবৈধ পাইপ দিয়ে লবণ পানি ঢোকানোয় শত শত একর জমির ধান নষ্ট হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নদী-খাল ও ফসলের মাঠে লবণপানি ঢোকানো বন্ধের দাবিতে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন হয়েছে। সদর উপজেলার ‘ডেমা ইউনিয়নের ভুক্তভোগী কৃষকগণ’ ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন শেষে তাঁরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, লবণপানির কারণে ডেমা ইউনিয়নের অন্তত আট হাজার একর জমির ধান নষ্ট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ডেমা ইউনিয়নের হেদায়েতপুর গ্রামের কৃষক এস এম আরাফাত হোসেন। মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বিল্লাল হোসেন, স্থানীয় কৃষক ফজলে রাব্বি, নাজুম হাসান, গোলাম মওলা, রবিউল ইসলাম, আলি রাজ, মো. সোলাইমানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে তাঁরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মানুষের কারণে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ডেমা ইউনিয়নে ১৭টি জলকপাট ও ১৬টি অবৈধ পাইপ দেওয়া আছে। মাঠের ধান এখন ফলনের (পাকার) অপেক্ষায় আছে। এই মুহূর্তে মাছ চাষের জন্য অবৈধভাবে জলকপাট দিয়ে লবণপানি তোলা হচ্ছে। এতে সব ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর্যায়ে আছে। এতে এলাকার কৃষকেরা পথে বসে যাবেন। এলাকার কোনো সাধারণ মানুষ বা কৃষকই লবণপানি ঢোকানোর পক্ষে নয়। এরপরও নদী-খালগুলো অবৈধভাবে দখল করে মাছ চাষকারীরা লবণপানি ঢোকাচ্ছেন। বারবার প্রশাসনের কাছে দরখাস্ত করেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে তাঁরা এখানে আসতে বাধ্য হয়েছেন।

কৃষকদের ধান রক্ষায় অতি দ্রুত লবণপানি প্রবেশ বন্ধ করার দাবি জানিয়ে কৃষকেরা বলেন, এরপরও যদি প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ইউনিয়নবাসী ডিসি ও ইউএনও কার্যালয়ে অবস্থান নিতে বাধ্য হবেন।

ডাকসু সদস্য বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আমার বাড়ি বাগেরহাটে। এখানকার বেশির ভাগ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিছু প্রভাবশালী মানুষ চিংড়ি চাষের জন্য লবণপানি প্রবেশ করাচ্ছেন। এতে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে ইউনিয়নের অন্তত আট হাজার একর জমির ধান নষ্ট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষকদের বাঁচাতে লবণপানির প্রবেশ ঠেকাতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

স্থানীয় কৃষক আরাফাত হোসেন বলেন, ‘আমাদের এখানে ৫২ শতকে বিঘা। এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করতে ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। যাঁরা নগদ টাকায় জমি রেখে (লিজ) চাষ করেন, তাঁদের ব্যয় আরও বেশি। মাঠে প্রায় গাছে ধানের শিষ চলে এসেছে, এ মাসের মধ্যেই বেশির ভাগ ধান পেকে যাবে। এখন যদি লবণপানি ঢোকানো হয়, তাহলে আমাদের মতো কৃষকদের বাঁচার পথ থাকবে না।’

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাট জেলায় চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৭১ একর জমিতে বোরো চাষ করেছেন কৃষকেরা।

জানতে চাইলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, দখল হয়ে যাওয়া নদী-খাল উদ্ধারে কাজ শুরু হয়েছে। স্লুইসগেট দিয়ে লবণপানি ঢোকানো রোধে ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। এখানে দুটি পক্ষ হয়ে গেছে। কেউ মাছচাষি, কেউ ধানচাষি। একপক্ষ লবণপানি ঢোকাতে চায়। ধানচাষিদের এতে ক্ষতি হয়। গত দেড় মাস ধরে তাঁরা এটা নিয়ে কাজ করছেন। আশা করছেন, দ্রুত সমাধান হবে।