রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে কার্যালয়ে তালা ছাত্রদলের

রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীদের অবস্থান। উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে কার্যালয়ে তালা দেন নেতা–কর্মীরা। তবে এ সময় উপাচার্য কার্যালয়ে ছিলেন না।ছবি: সংগৃহীত।

রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নেতা–কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে নিয়োগে অনিয়ম, স্থানীয় সংস্কৃতির অবমাননা, নিয়োগে রাজনৈতিকীকরণসহ চার অভিযোগ এনেছেন। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ অথবা উপাচার্যকে অপসারণ না করা হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে শাখা ছাত্রদল। সংবাদ সম্মেলন শেষ করেই উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা দেওয়া হয়। তবে উপাচার্য আজ ক্যাম্পাসে উপস্থিত নেই। তাঁর কার্যালয়ের একাধিক কর্মচারী জানিয়েছেন, দাপ্তরিক কাজে উপাচার্য রাঙামাটির বাইরে অবস্থান করছেন।

ছাত্রদলের ডাকা এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, বর্তমান উপাচার্য যোগদানের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পারিবারিক ও রাজনৈতিক আখড়ায় পরিণত করেছেন। তিনি নিয়োগ নিয়ে জালিয়াতি, আর্থিক অনিয়ম ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আদর্শের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগ করতে উপাচার্যকে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন নেতা-কর্মীরা। নাছির উদ্দিন বলেন, পদত্যাগ না করা পর্যন্ত উপাচার্য কার্যালয় ও প্রশাসনিক দপ্তরে কোনো কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না। এই আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস পরীক্ষা ও রেজাল্ট–সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে না। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে কোনো গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।

সরেজমিনে যা দেখা গেল

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ে প্রবেশপথের গেটে তালা দেওয়া। কার্যালয়ের কর্মচারীরা পাশের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে অবস্থান করছেন। তবে এ সময় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের কাউকে দেখা যায়নি। পুলিশ জানায়, তালা দেওয়ার পরেই তাঁরা ক্যাম্পাস এলাকা ত্যাগ করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মচারী প্রথম আলোকে বলেন, তালা দেওয়ার সময় ছয়জন কর্মচারী উপাচার্যের কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। পরে তাঁদের কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আতিয়ার রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়। তবে তিনি কল রিসিভ করেননি।

জানতে চাইলে ঘটনাস্থলে থাকা রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তাঁরা সজাগ রয়েছেন। বর্তমানে ক্যাম্পাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।