গ্রেপ্তার আবদুল হাই নাটোর সদর উপজেলার বড় হরিশপুর গ্রামের বাসিন্দা। আর রাব্বি মিয়া তাঁর চাচাতো ভাই। নির্যাতনের শিকার মুক্তি খাতুন (৩০) বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আবদুল হাই ও রাব্বিকে গ্রেপ্তারের পর আজ সকালে নাটোর র‍্যাব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বাহিনীটি।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের ক্যাম্প অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন বলেন, ১২ বছর আগে আবদুল হাই ও মুক্তি খাতুনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। বিয়ের পর থেকেই আবদুল হাই যৌতুকের দাবিতে ও তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে স্ত্রী মুক্তি খাতুনকে শারীরিক নির্যাতন করতেন। ঘটনার দিন দুপুরের খাবারে তরকারিতে তেল কিছুটা বেশি হওয়ায় আবদুল হাই ক্ষিপ্ত হন এবং রান্নাঘরের হাঁসুয়া দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। এ সময় তাঁদের মেয়ে বাবার দুই পা জড়িয়ে ধরে মাকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তিনি নির্যাতন বন্ধ করেননি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জীবন বাঁচাতে মুক্তি খাতুন দুই হাত দিয়ে হাঁসুয়া প্রতিহত করতে গেলে তাঁর বাঁ হাতের চারটি ও ডান হাতের তিনটি আঙুল কেটে চামড়ার সঙ্গে ঝুলতে থাকে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ওই দিনই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনায় মুক্তি খাতুনের পক্ষ থেকে নাটোর সদর থানায় স্বামী আবদুল হাই ও তাঁর সহযোগী রাব্বি মিয়ার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়। ঘটনার পরপরই তাঁরা আত্মগোপনে চলে যান। এরপর আজ ভোরে সদর উপজেলার হালসা ইউনিয়নের সুলতানপুর থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

আহত মুক্তি খাতুন বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা রেজা উন নবী গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, মুক্তি বেগমের হাতের সাতটি আঙুলের অবস্থা খুবই খারাপ। একটি হাত ভেঙেও গেছে। জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করা না হলে তাঁর আঙুলগুলো হারাতে হতে পারে।

মুক্তি খাতুন গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘হাঁসুয়া দিয়ে আমার গলা কাটার চেষ্টা করলে আমি হাত দিয়ে বাধা দেই। তারপরও এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। আমি দৌড়ে না পালালে আমাকে মেরেই ফেলত। আমি আমার স্বামীর বিচার চাই। তিনি আগের তিনটি বিয়ে গোপন করে আমাকে বিয়ে করেছিলেন।’

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আবদুল হাই-মুক্তি খাতুন দম্পতির ১১ বছরের মেয়ে বলে, ‘আমি বাবার পা ধরে বলেছি, “আব্বা মাকে ছেড়ে দাও, মা মরে যাবে”, তবুও আব্বা মাকে ছাড়েনি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন