‘ঈদের আগে এক্সিডেন্ট হয়, তহন বাড়িত যাই নাই, কিন্তু সড়কই আমার সব কাইরা নিল’

সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী ও ছেলেকে হারিয়ে আহাজারি করছিলেন রুপালী আক্তার।শনিবার সকালে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আলালপুর এলাকায় ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট সড়কেছবি: প্রথম আলো

ময়মনসিংহের সদর উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা ও তাঁর শিশু ছেলে নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট সড়কের আলালপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দুজন হলেন হালুয়াঘাট উপজেলার বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) ও তাঁর চার বছর বয়সী ছেলে রোহান মিয়া। জাহাঙ্গীর আলম ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় কাপড়ের ব্যবসা করতেন এবং পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ শহর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী রুপালী আক্তার, বড় ছেলে রাফি মিয়া (৮), ছোট ছেলে রোহান মিয়া (৪) ও শ্যালিকা শেফালী আক্তার। অটোরিকশাটি আলালপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই জাহাঙ্গীর আলম ও তাঁর ছেলে রোহানের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনায় রাফি মিয়া সামান্য আহত হয়। তাঁকে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর অটোরিকশার চালক পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে স্থানীয় লোকজন।

দুর্ঘটনাকবলিত সিএনজিচালিত অটোরিকশা
ছবি: প্রথম আলো

স্থানীয় বাসিন্দা জিয়া রহমান বলেন, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন জাহাঙ্গীর আলম। এতে তিনি ও তাঁর ছোট ছেলে নিহত হলেও পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রাণে বেঁচে যান।

স্বামী ও সন্তানের মরদেহের পাশে আহাজারি করতে করতে রুপালী আক্তার বলেন, ‘ঈদের আগে এক্সিডেন্ট হয়, তহন বাড়িত যাই নাই, কিন্তু সড়কই আমার সব কাইরা নিল।’

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।