উপজেলা প্রশাসন ও গুচ্ছগ্রামের উপকারভোগী ব্যক্তিদের সূত্রে জানা যায়, মুজিব বর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের (দ্বিতীয় পর্যায়) আওতায় উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের বাছুর আলগা গ্রামে প্রায় ১ একর জমিতে ৩১টি পরিবারকে দুই কক্ষবিশিষ্ট আধাপাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়। গত বছরের ২০ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে এসব ঘর হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে এই গুচ্ছগ্রামে দেড় শতাধিক মানুষ বাস করেন। এটি শেরপুর-চন্দ্রকোনা সড়কের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত। আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ, পানি, শৌচাগার ও রান্নাঘরের সুবিধা রয়েছে। কিন্তু গুচ্ছগ্রাম থেকে মূল সড়কে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। ফলে গুচ্ছগ্রামে বসবাসকারী মানুষ আশপাশের বাড়িঘরের উঠান ও ফসলি জমির ওপর দিয়ে যাতায়াত করছেন। প্রায়ই সেসব বাড়িঘর ও জমির মালিকেরা তাঁদের চলাচলে বাধা দেন ও গালমন্দ করেন। ফলে গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা তাঁদের চলাচলে বিড়ম্বনা, দুর্ভোগ ও ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে বাছুর আলগা গুচ্ছগ্রামে দেখা যায়, গুচ্ছগ্রামের উত্তরে ব্যক্তিমালিকানাধীন ফাঁকা জমিটি বাঁশ ও তার দিয়ে বেড়া দেওয়া হয়েছে। পূর্বপাশের জমিতে আবাদ করা হয়েছে। গুচ্ছগ্রামের পশ্চিম পাশের জমিতে কয়েকটি বাড়ি ও আবাদি জমি রয়েছে। আর দক্ষিণ পাশে গুচ্ছগ্রামের প্রায় ২০ শতাংশ খাসজমি রয়েছে, কিন্তু সেদিক দিয়ে রাস্তা নেই। গুচ্ছগ্রাম থেকে বের হয়ে শেরপুর-চন্দ্রকোনার মূল সড়কে আসতে উত্তর প্রান্তের জমিটি ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু ওই জমির মালিক লাল মিয়া বাঁশ ও তার দিয়ে বেড়া দেওয়ায় গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা আশপাশের বাড়িঘরের উঠান ও ফসলি জমির ওপর দিয়ে কষ্ট করে যাতায়াত করছেন। এই প্রতিনিধি নিজেও কাদাপানি মাড়িয়ে বিভিন্ন বাড়ির ওপর দিয়ে গুচ্ছগ্রামে যান।

এ সময় বাছুর আলগা গুচ্ছগ্রামের উপকারভোগী মো. কালাচান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি দিনমজুরের কাজ কইরা সংসার চালাই। নিজের কোনো জায়গা-জমি নাই। বাইরে যাইয়া কাজ-কাম করন লাগে। কিন্তু চলাচলের রাস্তাঘাট না থাকায় অনেক সমস্যা হইতাছে। আশপাশের বাড়িঘরের ওপর দিয়া যাওয়ার নিলে তারা গালাগালি করে ও বাধা দেয়। বলে সরকার তোগরে ঘর দিছে। তোরা সরকারি জায়গা দিয়া চলাচল করগা। কিন্তু চলাচলের জন্য সরকারের কোনো রাস্তা না থাকায় আমগরে খুব কষ্ট ও সমস্যা হইতাছে।’

গুচ্ছগ্রামের আরেক বাসিন্দা সাব্বির ইসলাম বলেন, তিনি আচার বিক্রি করে সংসার চালান। কিন্তু গুচ্ছগ্রাম থেকে বের হওয়ার রাস্তা না থাকায় ভ্যান নিয়ে বের হতে পারেন না। আশপাশের জমি ও বাড়ির ওপর দিয়ে চলাচল করতে গেলে ওই সব জমির মালিকেরা গালিগালাজ করেন। ফলে আয়-রোজগার প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে।

গুচ্ছগ্রামের কালাচান, সাব্বির ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন, জোছনা বেগমসহ কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সরকার তাঁদের ঘর ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে। এতে তাঁরা খুব খুশি। কিন্তু চলাচলের রাস্তাঘাট না থাকায় তাঁরা দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেকটা জেলখানার মতো বন্দীজীবন কাটাচ্ছেন। তাঁদের সমস্যার কথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। এই সমস্যার সমাধান করে দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান তাঁরা।

গুচ্ছগ্রাম থেকে মূল সড়কে যাওয়ার জন্য উত্তর পাশের জমিটির মালিক মো. লাল মিয়া। ওই জমিতে বাঁশ ও তার দিয়ে বেড়া দেওয়ায় গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে লাল মিয়া বলেন, এটি তাঁর পৈতৃক জমি। এই জমিতে তিনি কৃষি আবাদ করেন। এই জন্য সেখানে বেড়া দিয়েছেন। কারও চলাচলের জন্য তো তিনি জমি দিতে পারেন না।

এ ব্যাপারে ইউএনও বুলবুল আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, বাছুর আলগা আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকারভোগী ব্যক্তিদের চলাচলের সমস্যার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। শিগগিরই ওই প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন