ফেনীর সাবেক তিন সংসদ সদস্যসহ ১৫৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
ফেনীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলি করে শিক্ষার্থী ওয়াকিল আহমেদ শিহাবকে (১৮) হত্যার মামলায় সাবেক তিন সংসদ সদস্যসহ ১৫৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গতকাল বিকেলে ফেনী সদরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হাসানের আদালত এই আদেশ দেন।
যে তিনজন সাবেক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে তাঁরা হলেন—ফেনী-১ আসনের আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ফেনী-২ আসনের নিজাম উদ্দিন হাজারী ও ফেনী-৩ আসনের মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মহিপালে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচিতে গুলি করে হত্যা করা হয় ওয়াকিল আহমেদ শিহাবকে। শিহাব ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কাশিমপুর গ্রামের প্রবাসী সিরাজুল ইসলামের বড় ছেলে। ২০২৩ সালে স্থানীয় জায়লস্কর উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট ফেনী মডেল থানায় হত্যা মামলা করে শিহাবের মা মাহফুজা আক্তার। মামলায় ১৫১ জনের নাম উল্লেখ করে ১০০-১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর আদালতে তিনটি পৃথক ধারায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ও ফেনী মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোতাহের হোসেন। অভিযোগপত্রে ২২০ জনকে আসামি করা হয়।
এসআই মোতাহের হোসেন বলেন, মামলার তদন্তের সময়ে ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (স্বতন্ত্র) ও আওয়ামী লীগ নেতা রহিম উল্যাহসহ এজাহারভুক্ত ১৪ জন এবং সন্দেহভাজন ৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা মেজবাহ উদ্দিন, এনামুল হকসহ ৬ জনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। তাঁদের সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুর নবী ওরফে নবী মেম্বার এবং ফেনী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁরা দুজনই সেদিন গুলি করেন।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা বলেন, ‘দুই দফা পর্যালোচনা শেষে গতকাল আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেছে। আসামিদের মধ্যে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার বিরুদ্ধে দোষীপত্র দেওয়া হয়েছে। শিশু আদালতে তার বিচার অনুষ্ঠিত হবে। ১০ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।’
ওয়াকিল আহমেদ শিহাব হত্যা মামলায় পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি ফেনী কোর্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দু-এক দিনের মধ্যে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আদেশের কপি সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সংঘটিত ফেনীতে নৃশংস হামলার ঘটনায় ২৪টি মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে ৭টি হত্যা এবং ১৭টি হত্যাচেষ্টা ও সহিংসতার অভিযোগে করা।