রাতের খাবার খেয়ে ক্যাম্পের ১০ পুলিশ সদস্য অচেতন, হাসপাতালে ভর্তি

কুষ্টিয়ায় পাটিকাবাড়ি পুলিশ ক্যাম্পে রাতের খাবার খেয়ে পুলিশের ১০ জন সদস্য অচেতন হয়ে পড়েন। রোববার দুপুরে তোলাছবি: প্রথম আলো

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি পুলিশ ক্যাম্পে রাতের খাবার খাওয়ার পর পুলিশের ১০ জন সদস্য অচেতন হয়ে পড়েন। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে অচেতন অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর আজ রোববার সকালে ক্যাম্প ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পুলিশ সদস্যরা হলেন উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল আমিরুল ইসলাম, মুকতার হোসেন, মোহাম্মদ আমিন, আমিনুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, রেজাউল ইসলাম ও মনিরুল ইসলাম। তারা সবাই পাটিকাবাড়ি পুলিশ ক্যাম্পে কর্মরত।

জেলা পুলিশ ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে ক্যাম্পে অন্তত ১২ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১০ জন রাতের বিভিন্ন সময়ে খাবার খান। খাবারের তালিকায় ছিল সাদা ভাত, মুরগির মাংস ও সবজি। খাবার খাওয়ার পর তাঁদের শরীরে ঝিমুনি দেখা দেয়। একপর্যায়ে তাঁরা অচেতন হয়ে পড়েন। ডাকাডাকি করেও সাড়া না মেলায় রাত সাড়ে তিনটার দিকে তাঁদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়।

মেডিসিন বিভাগের ইউনিট-৩-এর প্রধান চিকিৎসক রেজাউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ সদস্যরা অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে এসেছেন। তাঁদের ব্যবস্থাপত্র দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাবারে কোনো বিষক্রিয়া বা অন্য কোনো কারণে এমন হতে পারে। বর্তমানে তাঁরা আশঙ্কামুক্ত। আপাতত তাঁদের ভর্তি রাখা হয়েছে।

এ ঘটনার পর সকালে ওই ক্যাম্পে যান পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম। এ ছাড়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পুলিশের একটি দল সেখানে তদন্ত শুরু করে। ক্যাম্পে পাটিকাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা সালেহা খাতুন নামের এক নারী দীর্ঘ দুই বছর ধরে রান্নার কাজ করেন। পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) ফয়সাল মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশ সদস্যরা আপাতত সুস্থ আছেন।