এসি ল্যান্ডসহ ৬ জনকে কুপিয়ে জখম: ডাকাতির অভিযোগ দিলেও মারধর ও হত্যাচেষ্টার মামলা নিল পুলিশ

আহত এসি ল্যান্ড সাকিব হাছান খাঁন। রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার হাইজাদী ইউনিয়নের ধন্দী এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁনসহ ছয়জনকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় মারধর ও হত্যাচেষ্টার মামলা হয়েছে। ঘটনার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

শনিবার রাতে আহত সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। বাদীর দাবি, তিনি ডাকাতির অভিযোগ দিয়েছেন, পুলিশ মারধর ও হত্যাচেষ্টার মামলা হিসেবে এজাহার গ্রহণ করেছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে উপজেলার হাইজাদী ইউনিয়নের ধন্দী এলাকায় গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন সাকিব হাছান খাঁন। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় তিনি কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির সামনে বসে কথা বলছিলেন। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত তাঁদের ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও মারধর করে আহত করে। হামলায় সাকিব হাছান ছাড়াও আরও কয়েকজন আহত হন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার সময় দুর্বৃত্তরা তাঁদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। এ ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের একজনের কানের দুলও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন বলেন, ‘গত শুক্রবার ছুটিতে বাড়ি আসি। রাতে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া শেষে হাঁটাহাঁটি করছিলাম। রাত সোয়া ১২টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি আমাদের দিকে টর্চের আলো ফেলতে ফেলতে এগিয়ে আসে। প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম, তারা পরিচিত কেউ। তাই তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা কাছে এসে বলে, “তোদের কারণে আমাদের কাজকর্মে সমস্যা হয়।” কথাটি বলেই তারা আমাদের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। ডাকাতেরা আমাকে বুকের বাঁ পাশে ছুরিকাঘাত করে। এতে সেখানে পাঁচটি সেলাই দিতে হয়েছে। আমার সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজনকেও গুরুতর জখম করা হয়।’

সাকিব হাছান আরও বলেন, ‘প্রতিবেশী মুকুল ভাই ও তাঁর স্ত্রী ডালিয়া বেগম বেশি আহত হয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকের শরীরে ৩০ থেকে ৩২টি সেলাই দিতে হয়েছে এবং তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ডাকাতেরা মুকুল ভাইয়ের স্ত্রীকে কুপিয়ে আহত করার পাশাপাশি তাঁর কানের এক জোড়া দুল নিয়ে যায়। একই সময়ে পাশের একটি বাড়িতেও ডাকাতি হয়েছে। সেখান থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতেরা। আমাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসে। পরে ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’

মারধর ও হত্যাচেষ্টার মামলা নেওয়া প্রসঙ্গে মামলার বাদী সাকিব হাছান খাঁন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ডাকাতির অভিযোগ দিয়েছি। পাশের গ্রামেও একই রাতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।’

আরও পড়ুন

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন বলেন, এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আড়াইহাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সালাউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, মামলার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ডাকাতির মামলা না নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেখানে তো ডাকাতি হয়নি। মারধর ও কুপিয়ে আহত করার ঘটনার মামলা নেওয়া হয়েছে।