কাল শুক্রবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ রয়েছে। এ সমাবেশের আগে আজ দাউদপুর ওয়াক্ফ মাঠে প্রস্তুতিমূলক সভার আয়োজন করে হ‌ুমায়ূন কবিরের নেতৃত্বাধীন কমিটি। দাউদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আফাজ উদ্দিনকে সভার সভাপতি ও নুরুল ইসলামকে বিশেষ অতিথি করা হয়। সভা শুরুর আগে দুপুর দেড়টায় সভাস্থলে রফিকুল ও হ‌ুমায়ূন কবীরের অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় চেয়ার ও মঞ্চ ভাঙচুর করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশের সহায়তায় বিকেলে সভা শুরু হয়ে সন্ধ্যায় শেষ হয়।

সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিরা হলেন ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সহসভাপতি রাকিব হাসান, যুবলীগ কর্মী মো. আজিম, মো. আসিফ ও মো. ইয়াকুব। আহত ব্যক্তিরা ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁরা সবাই ইউনিয়ন যুবলীগের একাংশের সভাপতি রফিকুল ইসলামের অনুসারী।

পরে পুলিশের সহায়তায় বিকেলে সভা শুরু হয়ে সন্ধ্যায় শেষ হয়। আহত ব্যক্তিরা ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘শুক্রবার ঢাকায় যুবলীগের মহাসমাবেশ সফল করতে আমরা প্রস্তুতি সভা ডাকি। নুরুল ইসলামের অনুসারীরা একই স্থানে সভা ডাকে। এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাদের ডেকে নিয়ে সভা না করার অনুরোধ করেন। আমরা অনুরোধ মেনে সভা না করার সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু নুরুল ইসলামের অনুসারীরা সেই একই স্থানে সমাবেশের আয়োজন করে। দুপুরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল মালুমের নেতৃত্বে আমার অনুসারীরা চারটি মোটরসাইকেলে করে সমাবেশ স্থলের সামনে দিয়ে আসছিল। এ সময় নুরুল ইসলামের অনুসারী ৬ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে।’ এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান রফিকুল।

অপরদিকে নুরুল ইসলাম বলেন, তাঁদের সমাবেশে রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে হামলা হয়েছে। এ সময় রফিকুলের লোকজন মঞ্চ ও চেয়ার ভাঙচুর করলে তাঁর অনুসারীরা বাধা দেন। এতে দুই পক্ষেরই কিছু লোক আহত হয়েছেন। তিনি বলেন,  ‘ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি গঠন নিয়ে রফিকুল পক্ষের সঙ্গে বিরোধ চলছে। কেন্দ্রীয় যুবলীগের মহাসমাবেশ সফল করতে আমার অনুসারীরা গত শনিবার সমাবেশ ডেকেছিল। এ সময় রফিকুলরা একই স্থানে পাল্টা সমাবেশ ডাকে। পরে সেই সমাবেশ পিছিয়ে এনে আজ সময় নির্ধারণ করা হলে রফিকুল পক্ষও হঠাৎ করে একই স্থানে সমাবেশ ডাকে।’

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এফ এম সায়েদ বলেন, দুই পক্ষের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে সভাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি।