আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রের সব সম্ভাবনা আছে, কতটুকু কাজে লাগছে

মিরসরাইয়ের নাপিত্তাছড়া ঝরনাফাইল ছবি

পাহাড়, হ্রদ, ঝরনা—সবই আছে। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের টানে ছুটে আসেন দূর-দূরান্তের অসংখ্য পর্যটক। তবে অপ্রতুল পর্যটকদের আবাসনের ব্যবস্থা। রয়েছে নিরাপত্তাসংকটও, যা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পর্যটনের বিকাশে। এমনই অবস্থা চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার। উপজেলাটিতে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা সত্ত্বেও পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তুলতে মনোযোগ নেই সরকারি সংস্থাগুলোর।

মিরসরাইয়ের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম হ্রদ মহামায়া; খৈয়াছড়া ঝরনা, নাপিত্তাছড়া ঝরনা, সোনাইছড়ি হ্রদ ও ঝরনা, রূপসী ঝরনা, বাউয়াছড়া হ্রদ, মেলকুম ট্রেইল, সোনাপাহাড়, হিলসডেল মাল্টি ফার্ম ও মধুরিমা রিসোর্ট, মিরসরাই-নারায়ণহাট সড়ক, আরশিনগর ফিউচার পার্ক, মুহুরী প্রকল্প, ডোমখালি সৈকত ও মিরসরাই জাতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের খইয়াছড়া ঝরনার ট্রেইল
ফাইল ছবি

দেড় দশক আগে মহামায়া হ্রদ আর খৈয়াছড়া ঝরনা ঘিরেই মিরসরাই ভ্রমণ করতেন পর্যটকেরা। তবে দিন দিন পর্যটনকেন্দ্রের তালিকায় নতুন নতুন নাম যেমন যুক্ত হয়েছে, তেমনি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে পর্যটক। মিরসরাইয়ের বেসরকারি পর্যটনকেন্দ্র ও বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, উপজেলায় প্রতিবছর গড়ে পাঁচ লাখ পর্যটক ভ্রমণ করতে আসেন। আবাসনসংকটের কারণে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের বড় একটি অংশকেই সকালে এসে বিকেলে ফিরে যেতে হয়। পর্যটন–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো আর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে পর্যটকের সংখ্যা অন্তত দ্বিগুণ হবে। মিরসরাইয়ে বাস্তবায়নাধীন জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে আগামী ১০ বছরে অন্তত ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হওয়ার কথা রয়েছে, যার সূত্র ধরেও পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বাড়বে দেশি-বিদেশি পর্যটক।

উপজেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে কেন্দ্র করে বেসরকারিভাবে কিছু আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে। তবে এসবের মান খুব একটা ভালো নয়। নিরাপত্তাব্যবস্থায়ও রয়েছে ঘাটতি। পর্যটন–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ট্যুরিস্ট পুলিশের দাবি জানিয়ে এলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এমনকি পেশাদার ট্যুরিস্ট গাইডের ব্যবস্থাও নেওয়া যায়নি।

বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা সবুজে ঘেরা একটি পর্যটন কেন্দ্র। গতকাল মিরসরাইয়ের সোনাপাহাড় এলাকায়
ছবি: প্রথম আলো

গত দুই বছরে তিনবার মিরসরাইয়ের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ঘুরতে এসেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাইমুর ইত্তেখাব। জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এমন বৈচিত্র্যপূর্ণ পর্যটন এলাকা দেশে খুব একটা নেই। বিশেষ করে বর্ষায় ঝরনাগুলোতে পর্যটক অনেক বেড়ে যায়। তখন আবাসনসংকট থাকে বেশি। নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আবাসনের ব্যবস্থা করা গেলে মিরসরাইয়ের পর্যটনশিল্প দ্রুত বিকাশ লাভ করবে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উপব্যবস্থাপক (বিপণন) শেখ মেহেদী হাসান প্রথম আলোকে বলেন, মিরসরাইজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বহুমুখী প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্র এবং প্রত্নতাত্ত্বিক যে নিদর্শনগুলো রয়েছে, তা সহজেই পর্যটকদের কাছে টানে। তবে আদর্শ পর্যটনকেন্দ্র গড়ে ওঠার মৌলিক যে শর্তগুলো রয়েছে, যেমন আবাসনব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও পেশাদার গাইড, এসবের যথেষ্ট ঘাটতি আছে। মিরসরাইয়ের পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনার দিকগুলো তুলে ধরে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা চলছে।